সংগ্রহীত
ডেস্ক রিপোর্ট
পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সরবরাহকারী ও ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এতে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং বাজারে সরকারের মূল্যনির্ধারণ কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকার জানুয়ারি মাসের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে এই সিলিন্ডার এক হাজার ৬৫০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ১৪ দশমিক ৬৫ লাখ টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এর মধ্যে মোট আমদানির ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ এসেছে বছরের শেষ ছয় মাসে। এই আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা, যা বছরওয়ারি হিসাবে প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
এলপিজি আমদানিতে শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, ওমেরা পেট্রোলিয়াম, যমুনা স্পেসটেক জয়েন্ট ভেঞ্চার, সান গ্যাস, ইউনাইটেড আইগাজ এলপিজি, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি, ডেল্টা এলপিজি, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, প্রিমিয়ার এলপিজি ও বিএম এনার্জি।
ঢাকায় ডিলারদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দামের মূল কারণ এলপিজি কোম্পানিগুলোর সরাসরি মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া। তাদের দাবি, কোম্পানিগুলো নিজেরাই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে।
সদরঘাট এলাকার ডিলার সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার এক হাজার ১৫০ টাকায় কিনে নির্ধারিত এক হাজার ৩০৬ টাকায় বিক্রি করার কথা। কিন্তু কোম্পানিগুলোই এক হাজার ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৩৪০ টাকায় সিলিন্ডার দিচ্ছে। এতে খুচরা পর্যায়ে সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।”
ভোক্তা ও ডিলাররা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার এবং মূল্যনিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
