হুমায়ুন রাশেদ পাবনা প্রতিনিধি :-
উত্তরের জনপদ পাবনায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত। গত কয়েকদিন ধরে এ জেলায় সূর্যের দেখা মিলছে খুবই কম। ঘন কুয়াশার সাথে হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। বিশেষ করে ঈশ্বরদী ও তৎসংলগ্ন পদ্মা নদী এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত নামতে শুরু করেছে। কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন । গতকাল পাবনার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ভোর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চারপাশ, যার ফলে মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তীব্র শীতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষ ও দিনমজুররা চরম বিপাকে পড়েছেন। সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না তারা।
শহরের মোড়ে মোড়ে এবং গ্রামীণ জনপদে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে নিম্নআয়ের মানুষ। তীব্র ঠান্ডার কারণে জেলায় শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন।

শহরের আব্দুল হামিদ রোডের এক রিকশাচালক জলিল জানান, এত ঠান্ডা যে রিকশা চালানো যাচ্ছে না। হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। কুয়াশার কারণে রাস্তায় কিছু দেখা যায় না, যাত্রীও খুব কম।
শীতের তীব্রতায় বোরো ধানের বীজতলা ও রবি শস্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে আলু ও সরিষা চাষে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। গবাদি পশুদের নিয়ে খামারিরাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। বিত্তবানদেরও এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।