কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা ভূমি অফিসে একটি শক্তিশালী দালালচক্রের মাধ্যমে প্রকাশ্য ঘুষ-বাণিজ্য ও অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আকতার নামের এক ব্যক্তি কানুনগো কালি চরণ ধরসহ ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও তহসিলদার কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভূমি অফিসের আশপাশে ২০ থেকে ২৫ জন দালাল অবস্থান করে। এরা ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে অফিসে ঢোকার আগেই বিভিন্ন প্রলোভনে ফেলে জিম্মি করে এবং পরে সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, খতিয়ান, নামজারি ও জমিজমা সংক্রান্ত কাজে আসা সেবাপ্রার্থীরা আকতার ও তার সহযোগী দালালদের খপ্পরে পড়তে বাধ্য হন। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি নামজারির বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তা নিষ্পত্তি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উল্টো সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আকতার নিজেকে ভূমি অফিসের ‘সহকারী’ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন। ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে তার অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। টেকনাফ পৌরসভার অলিয়াবাদ এলাকায় জমি ও বাড়িঘর এবং সাবরাং এলাকায় একাধিক জমির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ভূমি অফিস সংলগ্ন একটি মার্কেটের পাশের দোকানে বসেই আকতার ভূমি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এর আগে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে ভূমি অফিসে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়, তবুও নিয়মিত তহসিলদার অফিসে তার যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, আকতারের পিতা মিয়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন। একজন মিয়ানমারের নাগরিক কীভাবে নিজেকে ভূমি অফিসের সহকারী পরিচয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কানুনগো কালি চরণ ধর দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার ‘অতিরিক্ত ক্ষমতার’ কারণে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আকতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তিনি আগে ভূমি অফিসে কাজ করলেও বর্তমানে সেখানে যাতায়াত করেন না।
টেকনাফ ভূমি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।