রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৩নং চিৎমরম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের শালবাগান ব্রিজটি দীর্ঘ ৩০ বছরেও সংস্কার না হওয়ায় চরম ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলাচল করছে স্থানীয় হাজারো মানুষ। জরাজীর্ণ এই ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শালবাগান ছড়ার ওপর নির্মিত ব্রিজটি ১৯৯৬ সালে নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটির ওপর দিয়ে চিৎমরম ইউনিয়নের বাঙালি পরিবারসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। একই সঙ্গে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নিয়মিত এই ব্রিজ ব্যবহার করে কর্তব্য পালন করে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটির পিলারের পলেস্তার খসে পড়ে অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে ব্রিজটির এক পাশের রেলিং বহু আগেই সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে গেছে। অপর পাশের রেলিংয়ের পলেস্তারও খসে পড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
চিৎমরম ইউনিয়নের বাসিন্দা পল্লী পশু চিকিৎসক মো. আনোয়ার হোসেন, আব্দুল্লা আল মামুন ও ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত এই ব্রিজটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৫টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। তারা দ্রুত ব্রিজটির সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে চিৎমরম ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, “শালবাগান ব্রিজটি বর্তমানে কাপ্তাই ও চিৎমরম ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ব্রিজটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তাই এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দীর্ঘদিনের অবহেলায় পড়ে থাকা শালবাগান ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার অথবা পূর্ণ পুনর্নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চিৎমরম শালবাগান ব্রিজ—এক পাশে রেলিং নেই, অন্য পাশেও ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট।