চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি নামী বেকারি ও রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতারি প্রস্তুতের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘরে তেলাপোকা ও ইঁদুরের বিচরণ, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
৫ মার্চ(বৃহস্পতিবার) নগরের জিইসি মোড় এলাকায় হারুন বেকারিতে অভিযান চালিয়ে দেয়ালজুড়ে তেলাপোকার উপস্থিতি দেখতে পান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, বেকারির রান্নাঘরে প্রবেশ করতেই দেয়ালজুড়ে তেলাপোকার বিচরণ দেখা যায়। রান্নার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ১০ দিনে নগরের অন্তত পাঁচটি বেকারি ও রেস্তোরাঁয় একই ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বারকোড সুইটস, মেরিডিয়ান রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি পরিচিত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চকবাজার এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় অভিযানে গিয়ে রান্নাঘরে তেলাপোকা ও ইঁদুরের বিচরণ দেখা যায়। পরে ১ মার্চ মুরাদপুর এলাকার বারকোড সুইটস অ্যান্ড কনফেকশনারিতেও তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এছাড়া কালুরঘাট ও গরীবুল্লাহ শাহ হাউজিং এলাকার দুটি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর স্যাঁতসেঁতে ও অপরিচ্ছন্ন। আগে জরিমানা ও সতর্ক করার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
এদিকে খাদ্য তৈরিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার চকবাজার এলাকায় সাতকানিয়া ভাতঘর নামের এক প্রতিষ্ঠানে অভিযানের সময় জিলাপি তৈরিতে হাইড্রোজ ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই রাসায়নিক দীর্ঘ সময় ব্যবহারে কিডনি ও মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তেলাপোকা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু বহন করে, যা খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ডায়রিয়া, আমাশয় ও ফুড পয়জনিংয়ের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, শুধু জরিমানা করলে অনেক প্রতিষ্ঠান আবার একই অপরাধ করে। তাই প্রয়োজন হলে এসব প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে সিলগালা করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।