ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভয়াশ্রম এলাকায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। কিন্তু বেড়া উপজেলায় ইলিশের পোনা তথা জাটকা ধরা কিংবা বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও যেন এ নিয়মের বালাই নেই। এ উপজেলার যমুনা-পদ্মার নদীর অববাহিকায় নগরবাড়ি, কাজিরহাট, মহনগঞ্জ, কল্যানপুর, ঢালারচর মোহনায় প্রতিনিয়ত চলছে জাটকা নিধন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অসাধু বিক্রেতারা জাটকা বিক্রি করে আসলেও দেখার যেন কেউ নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ এক শ্রেণীর অসাধু জেলে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ইলিশের পোনা তথা জাটকা নিধনে লিপ্ত রয়েছে। নদী থেকে আহরণ করা জাটকা স্থানীয় বাজারসহ আশপাশের বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরকার ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ নভেম্বর ২০২৫ইং থেকে ৩০ জুন ২০২৬ইং পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে জাটকা ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে। এরপরও বেড়া উপজেলার নদ-নদীতে জাটকা নিধন হচ্ছে এবং উপজেলার ছোট-বড় সব হাটবাজারে প্রতিদিন তা পাইকারি ও খুচরা মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিন গত রবিবার সকালে বেড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্যান যোগে জাটকা কেনাবেচা করতে দেখা গেছে, চাপিলা মাছ বলে ক্রেতাদের কাছে প্রকাশ্যে ইলিশের পোনা বিক্রি করা হচ্ছে। এসময় পোনাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো সি এন বি চতুর বাজার মাছের আড়ৎ থেকে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।
তবে স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, আশপাশের উপজেলা থেকে রাতের আধারে জাটকা পাচার হয়ে স্থানীয় মৎস্য আড়তগুলোতে পৌঁছে যায়। আর ভোরের আলো ফোটার আগেই পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেয় আড়ত মালিকরা। জাটকা ক্রয়-বিক্রয় বন্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
বেড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মোকারম হোসেন বলেন, জাটকা নিধন রোধে নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি, বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।