বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের আত্মত্যাগ অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু। তিনি বলেছেন, যারা ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত অস্বীকার করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করতে চান, তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।
বৃহস্পতিবার ( ২ এপ্রিল ) বিকেলে মাইজদী হাউজিং বালুর মাঠে আয়োজিত নোয়াখালী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা মানে শুধু ইতিহাসকে অস্বীকার করা নয়, বরং ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির ঘটনাকে অস্বীকার করা। যারা এ ধরনের অবস্থান নেয়, তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়।
বুলু বলেন, “যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে এবং ইতিহাসকে বিকৃত করতে চায়, তারা মূলত দেশের স্বাধীনতার চেতনার বিরোধী। মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সাথে যারা বেঈমানী করেন, তাদের এই দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু মানুষ গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকার মা-বোনদের ভুল বুঝিয়ে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ মানুষের কাছে “বেহেশতের টিকেট” বিক্রির মতো ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে।
তিনি বলেন, “বেহেশতের টিকেট কেউ বিক্রি করতে পারে না। আল্লাহর রাসুলও কাউকে বেহেশতের নিশ্চয়তা দিয়ে দেননি। মানুষের আমল, ইমান-আকিদা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপরই নির্ভর করে তার পরিণতি।”
বুলু আরও বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা ইসলাম ধর্মের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী। যারা এভাবে মানুষের ঈমান-আকিদা নিয়ে খেলছে, তারা ইসলামকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গরিব-অসহায় মানুষকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আল্লাহ ইনশাআল্লাহ একদিন তাদের কঠিন শাস্তি দেবেন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সরওয়ার উদ্দিন এবং নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর।
এ সময় নোয়াখালী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, দি নোয়াখালী চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিস এর সভাপতি ফিরোজ আলম মতিন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।