Oplus_16908288

ঈশ্বরদীতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগ (২৭) হত্যার চারদিন পর অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) নিহত সোহাগের বাবা, পেশায় রাজমিস্ত্রী ইমানুল প্রামাণিক (এনামুল) বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় খুনের মামলাটি দায়ের করেন। নিহত ইমরান হোসেন সোহাগ ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদল নেতা ও জিয়া সাইবার ফোর্স উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সাঁড়া গোপালপুর এলাকার মৃত কুরমান আলীর ছেলে মো. রাজন (২৪)-কে। অন্য আসামিরা হলেন—মো. শাজাহানের ছেলে মো. রুবেল (২৭), মৃত কুরমান আলীর ছেলে মো. স্বপন (৪০), মো. শাজাহানের ছেলে মো. নয়ন (৩০), মৃত আজাহারের ছেলে মো. শাজাহান (৬৫), মৃত কুরমান আলীর ছেলে মো. সুমন (২৬) এবং মো. স্বপনের ছেলে মো. সাজিম (১৯)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার।
এজাহারে বাদী ইমানুল প্রামাণিক উল্লেখ করেন, আসামিদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ অনেকদিন ধরে চলছিল। গত ২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে তিনি জানতে পারেন, দুপুর আড়াইটার দিকে তার ছেলে ইমরান হোসেন সাঁড়া গোপালপুর আখ সেন্টারে গিয়েছিল। সেখানে সে বন্ধু অন্তর হোসেন, মো. শান্ত, মো. রিশাদসহ অন্যদের সঙ্গে সময় কাটায়।
পরে সোহাগ অন্তর ও রিশাদকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈশ্বরদী বাজারে যায় এবং রিশাদকে নামিয়ে দিয়ে অন্তরকে সঙ্গে নিয়ে আবার গোপালপুর আখ সেন্টারে ফিরে আসে।
এজাহারে আরও বলা হয়, একইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপালপুর আখ সেন্টারের পেছনে মো. মিজান নামে এক ব্যক্তি তালতলা মোড়ে যাওয়ার কথা বলে সোহাগের মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। মোটরসাইকেলের জন্য অপেক্ষা করার সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে সাঁড়া গোপালপুর স্কুল মাঠের পেছন থেকে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা হেলমেট পরিহিত অবস্থায় গুলি করতে করতে রেললাইনের দিকে এগিয়ে আসে।
গোলাগুলির শব্দে সোহাগ ও তার বন্ধু অন্তর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, “ইমরান হোসেন সোহাগ হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এজাহারের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
