
গণঅধিকার পার্টি পিআরপি এর নীতি নির্ধারনী কমিটির গত ১লা এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বিকাল ৩.৩০ ঘটিকায় মতিঝিল সিটি সেন্টারে সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেবের ব্যবসায়ীক অফিস কক্ষে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান মহোদয় সভাপতির বক্তব্যে গণঅধিকার পার্টি পিআরপি রাজনৈতিক দল গঠনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ননা করেন যাহা গণঅধিকার পার্টি পিআরপি ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সাজ্জাত হাসান সাব্বির খাঁন, পত্রিকায় প্রকাশের জন্য সকল প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন মিডিয়ার বার্তা সম্পাদকের নিকট চেয়ারম্যান মহোদয় বক্তব্যটি লিখিত প্রেরণ করেন।
গণঅধিকার পার্টি পিআরপি রাজনৈতিক দল গঠনের ইতিহাসঃ মতিঝিল সিটি সেন্টারে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের অফিস কক্ষে গণঅধিকার পার্টি পিআরপি এর নীতি নির্ধারনী কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়, গণঅধিকার পার্টি পিআরপি এর ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মোঃ সাজ্জাত হাসান সাব্বির খাঁন উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য বর্ননা করতে গিয়ে বলেন সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেবের হাত ধরেই ২০১১ সালে ২৮ ডিসেম্বরে গণঅধিকার পার্টি পিআরপি নামে একটি রাজনৈতিক দলের জম্ম হয়। প্রথমেই একটু ধারণা দেই কে এই সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেব? নওগাঁ জেলায় অবস্থিত রানীনগর উপজেলার অধিনে গুয়াতা গ্রামে মধ্যবিত্ত এক কৃষক পরিবারে তাহার জন্ম হয়।ছোট বেলা থেকেই তিনি সহজ সরল এবং উদার মনের মানুষ ছিলেন। সাধারণত মানুষের দুঃখ কষ্ট উনি সহ্য করতে পারতেন না এবং কোনো অন্যায় দেখলে ছোট বেলা থেকেই সে প্রতিবাদ করতেন এবং কোনো প্রকার অন্যায়ের সাথে আপোষ ও সমঝোতা করতেন না।ছোট্ট বেলা থেকেই তার ইচ্ছা একটা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে সেই দলের নেতৃত্বে একটি বেকার মুক্ত, দূর্নীতি মুক্ত স্বয়ং সম্পূর্ণ বাংলাদেশ গঠন করতে হবে।
১৯৮২ সালে তিনি গুয়াতা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এসসি ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছিলেন। স্কুলে ছাত্রদের মাঝে এবং খেলাধুলার মাঠে তার নেতৃত্বের বিচক্ষণতা দেখে, বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুর রউফ, সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেবকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সংগঠন করার জন্য প্রস্তাব করেন। ইসলামের সংগঠনে কাজ করার অফারকে তিনি সৌভাগ্য মনে করলেন এবং সে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করলেন এবং ইউনিট সভাপতির দায়িত্ব পান।বাংলাদেশ ছাত্র শিবির যেহেতু ইসলামী সংগঠন সেহেতু সে বিভিন্ন স্কুল কলেজে ইসলাম প্রচার মনে করে গুরুত্ব সহকারে সংগঠনের কাজ করতেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির এবং জেলা আমির তার সাংগঠনিক কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং তাকে ছাত্র শিবির থেকে সরিয়ে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন।তখন তার কাজের স্পৃহা ও গতি আরো বেড়ে যায়। একদিন ভোরবেলা ফজরের নামাজ পড়ে উনি মসজিদ থেকে বের হয়ে দেখেন চারিদিকে পুলিশের গাড়িতে ভর্তি এবং যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই শুধু পুলিশ আর পুলিশ পুরো এলাকা থমথমে এবং আতংকিত।খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন পার্শ্ববর্তী গ্রাম নারায়ন পাড়া সেখানে জামায়াতে ইসলামের আমির সাহেবের মাদ্রাসার নিচে থেকে প্রায় ২ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। কে এই অস্ত্রের মালিক এটা নিয়ে এলাকাবাসী বলাবলি করছিল যা শুনে ও দেখে বোঝার আর বাঁকি রইল না এই অবৈধ অস্ত্র ভান্ডারীর মালিক কে এবং কারা। যে দলের উপজেলা আমিরের মাদ্রাসার নিচে থেকে ২ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র প্রশাসন উদ্ধার করে সে দলের কাছে কখনোই দেশ, জাতি এবং ধর্ম কেহই নিরাপদ নয়। এই অবৈধ অস্ত্র ভান্ডারের মালিক যেই হোক তারা দেশ, জাতি এবং ধর্মের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। তাই খুব দ্রুতই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল থেকে সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করলেন।
পরবর্তীতে কিছুদিন পর আওয়ামিলীগের উপজেলা সভাপতি ও আওয়ামীলীগের জেলা যুগ্ম সভাপতি সরদার মোঃ আবু তালেব সাহেবের প্রস্তাবে সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেব আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে উপজেলা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে যোগদান করেন। সাংগঠনিক কাজের পাশাপাশি তিনি দলের নীতি ও নৈতিকতা বিষয়ের প্রতি নজর রাখতেন। সেই সময় জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে আওয়ামীলীগ থেকে নওগা, ৬ আসনের এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে সরদার মোঃ আবু তালেব সাহেব নমিনেশন ফরম ক্রয় করেন। আওয়ামীলীগের উপজেলা অফিসে পূর্বে ডাকা নির্ধারিত সময়েই মিটিং চলছিল সেই মিটিয়ে সরদার মোঃ আবু তালেব সাহেব উপস্থিত হলে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে একজন উকিলের নেতৃত্বে কিছু সন্ত্রাসী কর্মী বাহিনী বিনা কারণে সরদার মোঃ আবু তালেব সাহেবকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে উপজেলা পার্টি অফিস থেকে বের করে দেন এবং তারা কমিউনিষ্ট পার্টির একজন কমরেডকে আওয়ামীলীগের এমপি প্রার্থী হিসেবে নমিনেশন দেয়ার জন্য সুপারিশ করে কেন্দ্র পাঠায়। কেন্দ্রীয় অফিস থেকে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা কমরেডকে নোমিনেশন কনফার্ম করে দিলেন। সরদার মোঃ আবু তালেব সাহেব কে কিছু অশিক্ষিত কর্মীরা গলা ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দিয়েছিল এই অপমান সইতে না পেরে উচ্চ শিক্ষিত ভদ্রলোক স্টোক করে মারা যান অথচ আত্রাই ও রানীনগর এই দুই উপজেলায় আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করার মত সদস্য ছিলনা ঠিক সেই সময় এই সরদার মোঃ আবু তালেব সাহেব নিজের গাড়ি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে আওয়ামীলীগের সংগঠন দাঁড় করে ছিলেন।সেই ত্যাগী নেতাকে তারা মূল্যায়ন করল না, বরং তারা ত্যাগী জনপ্রিয় নেতা সরদার মোঃ আবু তালেব সাহেবকে সুকৌশলে হত্যা করলেন। তারা মানুষকে প্রয়োজনে ব্যবহার করে, প্রয়োজন ফুরালে টিস্যুর মত ছুঁড়ে ফেলে। আওয়ামীলীগের তৃনমুল নেতাকর্মী থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি পর্যন্ত সবাই অকৃতজ্ঞ এবং স্বার্থপর। এই দল দেশ ও জাতির জন্য নয়, এই দল ব্যাক্তি পুঁজা করে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করার দল এটা বোঝার পর ক্ষোভে ঘৃণাই সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেব আওয়ামীলীগ থেকে পদত্যাগ করলেন।
তারপর থেকে উনি গভীর ভাবনায় পরে গেলেন, কিভাবে এই অবহেলিত জাতির উন্নত জীবন ও জীবিকা করা যায় ও সুশৃঙ্খল জাতিতে পরিণত করা যায় এবং কিভাবে দেশেকে উন্নয়নশীল উন্নত দেশে পরিনত যায়। একক ভাবে দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করা সম্ভব নয়, কোন না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত হতে হবে । ঠিক তখনই বিএনপির স্বাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের প্রস্তাবে অনেক ভেবে চিনতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপিতে যোগদান করলেন। যোগদানের পর উনি দলের ভিতরে যে দৃশ্য দেখলেন সেটা বর্ননা করতে গিয়ে তিনি বলেন বিএনপি দলের বাহিরে এক রুপ, দলের ভিতরে আর এক রুপ যেমনঃ দলের ভিতরে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে সশস্ত্র পূর্ব বাংলার কমিনিষ্ট পার্টি, সশস্ত্র সর্বহারা সংগঠন এবং বাংলা ভাই (সিদ্দিকুল ইসলাম) এর উগ্রবাদী সশস্ত্র সংগঠন জেএমবি পরিচালিত হয় এবং সাধারণ জনগণের উপর তারা নিপিড়ন নির্যাতন চালাতো, মানুষকে তারা জবাই করে হত্যা করত। এসব দেখে এই দলের প্রতি তার প্রচন্ড ঘৃণা জন্ম নিল, এ দল দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্য নয়, এটা ভেবে প্রচন্ড ঘৃণা ভরে এই দল থেকে পদত্যাগ করলেন। অনেক সময় নষ্ট করে দেখলেন কোন রাজনৈতিক দলই দেশের উন্নয়ন এবং জাতির স্বার্থে কাজ করে না। কিন্তু উনি তো নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করতে চায়। তার ভাবনা আরোও প্রখর ভাবে বেড়ে গেলো কি ভাবে দেশ এবং জাতির উন্নয়ন করা যায়। পরিশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। কিন্তু কাদেরকে সাথে নিয়ে দল গঠন করবেন সবাইতো ব্যক্তি স্বার্থে রাজনীতি করে, কেউ দেশ এবং জাতির স্বার্থে রাজনীতি করেনা। তাই ভেবে, বসে থাকলে চলবেনা এই অবহেলিত জাতিকে উদ্ধার করতে হবে এই প্রতিজ্ঞায় সত্যের পথে শপথ নিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২৮শে ডিসেম্বর ২০১১ সালে জনাব হোসেন মোল্লাকে আহ্বায়ক করে গণঅধিকার পার্টি পিআরপি নামে একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ করলেন। স্বচেতন সাধারণ জনগন সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেবর ডাকে সাড়া দিয়ে গণঅধিকার পার্টি পিআরপি এর তালিকাভুক্ত সদস্য হতে শুরু করলেন।নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত মোতাবেক সকল শর্ত পূরণ করে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে দলের আহ্বায়ক হিসেবে হোসেন মোল্লার মাধ্যমে নিবন্ধনের সকল শর্ত পূরুন করে ফাইল জমা করা হল। তারপর ১১/১১/২০২৩ ইংরেজি তারিখে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের জাতীয় কাউন্সিলে মাধ্যমে সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেবকে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই সময় সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন গণঅধিকার পার্টি পিআরপি কে নিবন্ধন দেয়নি, কারণ সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেবর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল জনবান্ধব এবং অসাম্প্রদায়িক উন্নয়নশীল সুশৃংখল স্বয়ং সম্পূর্ণ দেশ গঠন করা। গণঅধিকার পার্টি পিআরপি নিবন্ধনের চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রীট করে, যাহার মামলা নং ১০৮৩২-২০১৩ ইং এবং বর্তমান মামলা চলমান।
সরদার মোঃ আব্দুস সাত্তার সাহেবর নেতৃত্বে বেকার মুক্ত ও দূর্নীতি মুক্ত একটি সুশৃঙ্খল এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণঅধিকার পার্টি পিআরপি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা হয়। গণঅধিকার পার্টিতে কোন দুষ্কৃতি, চাঁদাবাজ, ধর্ষণকারী এবং লুটপাটকারি সদস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে না এবং গণঅধিকার পার্টি পিআরপি কোনো দূর্নীতির সাথে জরিত নয় এবং কোন প্রকার অন্যায়ের সাথে আপোষ করে না। এই দলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশে কোন সংখ্যালঘু থাকবেনা এদেশে বসবাসকারী সবাই বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে গন্য হবে। নাগরিক হিসেবে সবাই সম অধিকারের মালিক হবে।
ধর্মঃ এই দলের নেতা কর্মীরা যার ধর্ম সে পালন করবে অন্য ধর্মের অনুসারীকে কেউ ঘৃণা অবহেলা অপদস্ত করতে পারবে না ও অন্য ধর্মের উপরে কোন প্রকার অসম্মান করতে পারবে না এবং বিপরীত ধর্মের উপর কেউ আঘাত হানতে পারবে না। তবে প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীরা তার নিজ ধর্ম স্বাধীন ভাবে পালন করবেন এবং নিজ ধর্ম অন্য ধর্মের অনুসারীর কাছে প্রচারের জন্য আলোচনা করতে পারবেন।
