
পাবনা: পাবনা জেলা শহরের একটি আবাসিক হোটেল যাহা লাকী নামে পরিচত। লাকি হোটেল থেকে অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই লাকি হেটেল এর মালিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে শহরের আওরঙ্গজেব রোডের ‘লাকি বোর্ডিং’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকি বোর্ডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট কক্ষ থেকে আজ দুপুরের দিকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। এতে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পাবনা সদর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কক্ষটির তালাবদ্ধ দরজা ভেঙে ভেতরে বিছানার ওপর ওই তরুণীর রক্তাক্ত ও গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
[video width="478" height="850" mp4="https://www.informationmedia24.com/wp-content/uploads/2026/05/VID-20260505-WA0119.mp4"][/video]
পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহটির অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত একদিন আগে তাকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে কক্ষটি বাইরে থেকে তালা মেরে রেখে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই হোটেলের ম্যানেজার, কর্মচারী কিংবা মালিক পক্ষের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হোটেলটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও বন্ধ অবস্থায় রেখে তারা সবাই লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এই আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ডের পেছনে হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো যোগসাজশ বা তথ্য গোপনের চেষ্টা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোরালো সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন: > "আমরা ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছি। সুরতহাল ও তদন্তের সূক্ষ্মতার স্বার্থে বর্তমানে মরদেহটি হোটেলেই আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় আলামত সংগ্রহের জন্য সিরাজগঞ্জের সিআইডি 'ক্রাইম সিন' ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে পৌঁছানোর পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।"
তিনি আরও জানান, নিহত নারীর সঠিক নাম-পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। হোটেলের রেজিস্টার খাতা ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে।