
সভায় বক্তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বন্দুক, টাকা এবং কলমের শক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে একটি মেধা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জোর দাবি জানান।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক দার্শনিক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, "ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—যেখানে বন্দুক শাসন করেছে, সেখানে কেবল ভয় টিকে থাকে; আর যেখানে কলমের ছোঁয়া লেগেছে, সেখানেই গড়ে উঠেছে টেকসই সভ্যতা। একটি গুলি মুহূর্তে একটি জীবন শেষ করে দিতে পারে, কিন্তু একটি লেখা শত বছর ধরে মানুষের চিন্তা, সমাজ আর রাষ্ট্রকে বদলে দিতে পারে। আইন, সংবিধান, শিক্ষা—সবকিছুর ভিত্তিই কিন্তু কলম।"
অনুষ্ঠানে কাতার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বিশিষ্ট লেখক এম এ রউফ বলেন, "টাকার প্রয়োজনকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কিন্তু টাকা নিজে কোনো মূল্য তৈরি করতে পারে না; মানুষের মেধা আর জ্ঞানই তাকে মূল্যবান করে তোলে। টাকা দিয়ে সবকিছু কিনতে চাইলে সাময়িক ক্ষমতা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রকৃত সম্মান পাওয়া যায় না। আর সম্মান ছাড়া কোনো ক্ষমতা টিকে থাকার রেকর্ড ইতিহাসে নেই।"
তিনি আরও যোগ করেন, "টাকা মানুষকে ধনী বানায়, কিন্তু কলম মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানায়। আসুন, আমরা সবাই মিলেমিশে প্রকৃত মানুষ হই।"
বক্তারা দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আজ বাংলাদেশের সামনে আসল প্রশ্ন হলো—আমরা কি ভয় (বন্দুক), লোভ (টাকা), নাকি বিবেক (কলম)—কোনটার পাশে দাঁড়াবো?
সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “We must side with কলম, মেধা, education, সত্য, ন্যায় and আল্লাহর পথে থাকবো।” এর অর্থ হলো—আমরা সর্বদা জ্ঞানের পথে থাকবো, ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করবো, সত্য বলতে ভয় পাবো না এবং আল্লাহর নির্দেশিত নৈতিক পথ অনুসরণ করবো। বন্দুকের ভয় আর টাকার লোভ মানুষকে দ্রুত টানলেও স্থায়ী সম্মান ও উন্নতি আসে ধৈর্য, জ্ঞান আর নৈতিকতা থেকেই।
বিবৃতির শেষ অংশে প্রবাসে কর্মরত সকল সহযোদ্ধা ভাইদের উদ্দেশ্যে বলা হয়—যে জাতি কলমকে সম্মান করে, সে জাতি কখনো পরাজিত হয় না। বাংলাদেশের মানুষকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে আমরা ভয় আর লোভের জাতি নই, বরং আমরা জ্ঞান ও ন্যায়ের জাতি।
বার্তা প্রেরক: