
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ও পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার হাফিজ আব্দুস সালাম (৫৩) এবং আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ রিপন (৩৭)। দুজনই পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। হাফিজ আব্দুস সালামের বাবার নাম মৃত আরজ আলী ব্যাপারী এবং মোঃ রিপনের বাবার নাম মৃত ওমেদ মেম্বার।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাটের বেচাকেনা শেষে সন্ধ্যায় হাট কার্যালয়ে বসে সালাম ও রিপনসহ কয়েকজন আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এ সময় ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র অজ্ঞাত চরমপন্থী দল হঠাৎ কার্যালয়ে প্রবেশ করে অত্যন্ত কাছ থেকে সালাম ও রিপনকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
বর্তমানে নিহত দুজনের মরদেহ পাবনা সদর হাসপাতাল মর্গে পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পুষ্পপাড়া হাট ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাটের আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িত চরমপন্থীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল অভিযানে নেমেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালেও এই পুষ্পপাড়া গরুর হাটে নৃশংসভাবে চারজন (০৪) খুন হয়েছিলেন। বারবার এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।