
নিকলীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় দুস্থ পরিবারগুলো মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ না করে অবৈধ পন্থায় পাচারের অভিযোগ উঠেছে কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।ঈদের পূর্বে ২দিন বিতরণ করলেও প্রায় ৭০বস্তা চাল ইতিমধ্যে কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউনে জব্দ রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।নানা নাটকিয়তার মধ্যে ঈদের পর রবিবার ২৯ মার্চ বিতরণ করতে চাইলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরোধিতায় চাল বিতরণ করতে পারেনি পরিষদ।তবে তাদের দাবি জব্দকৃত চাল উপজেলা প্রশাসন নতুন করে তালিকা করে অসহায় পরিবারদের মাঝে বিতরণ করতে হবে এবং প্যানেল চেয়ারম্যান সহ জড়িত সকলকে অপসারণ ও শাস্তির দাবি তুলেন।।তারা বলেন,বিক্রির উদ্যেশ্যে এ চাল সরিয়ে ফেলতে প্রস্তুতি নেয়ার মুহুর্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদে চালগুলো২৫ মার্চ উপজেলা প্রশাসন জব্দ করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। চাল বিতরণ নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও ছড়িয়েছে এলাকায়। রক্ষক যখন ভক্ষকে পরিনত হয়।
সরেজমিনে উপস্থিত সকাল থেকে চাল নিতে আসা দুস্থ অসহায় পরিবারগুলো বলেন, ঈদের আগেও তারা চালের কার্ড পায়নি।একাধিকবার পরিষদে আসলেও চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ চালের কার্ড দেয়নি।বলে চাল শেষ।তাহলে ৭০বস্তা চাল কোথায় থেকে আসলে।আমরা এর বিচার চাই। এদিকে বিএনপি নেতা সাঈদ জানান,সরকারের দূর্নাম ছড়াতে চেয়ারম্যান জামাল এহেন ঘৃণিত কাজ করেছে।যেখানে সরকারের নির্দেশ দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়তে সেখানে গরীব মানুষের চাল চুরি করে কি ভাবে এই চেয়ারম্যান। আমরা তার অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের উদ্যোগে ২৯ মার্চ এসব চাল বিতরণের কথা থাকলেও বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে প্রশাসন চাল বিতরণ করেনি।এসময় সকল উপস্থিত দুস্থ পরিবারগুলো ফিরে যায়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ছফির উদ্দিন জানান, দুইদিন চাল বিতরণের কথা থাকলেও লোকজন উপস্থিত না হওয়ায় চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।তবে চাল চুরি করে বিক্রির কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে এই সচিব দাবি করেন।কিন্তু এলাকাবাসী সচিবসহ জড়িত বলেও জানান।
জানতে চাইলে কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জামাল সর্দার সম্পূর্ণ ঘটনা মিথ্যা ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বলেন,প্রতিমন্ত্রী খাল খননের অনুষ্ঠানে পরিষদে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার উপস্থিতি না থাকায় চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি,তাই ঈদের পর বিতরণ করতে চেয়েছি।৭০ বস্তা চাল পরিষদে আছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তিকে অবগত করেছেন বলে প্যানেল চেয়ারম্যান জানান।একই দিনে অনুষ্ঠান থাকা সত্বেও বাকি ছয় ইউনিয়নে চাল বিতরণের কোন অভিযোগ নেই,সব পরিষদের চাল বিতরণ করেছে।কিন্তু কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভিন্ন কেন জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তির মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
