
১৫ এপ্রিল বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনাজপুর বীরগঞ্জের পাল্টাপুর ইউনিয়নের সেনগ্রাম এলাকায় আত্রাই নদীর মাধবঘাটে খানসামার বিএনপি নেতা তুহিন চেয়ারম্যানের নির্দেশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার মেশিন আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
সরজমিন অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বীরগঞ্জ, দীপঙ্কর বর্মন।
অভিযানিক দলের আগমন বুঝতে পেরে ড্রেজারের ড্রাইভার ও হেলপারেরা মেশিন রেখে পালিয়ে গেছে।
এ সময় খানসামা উপজেলার ভাবকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম তুহিনের নির্দেশে আত্রাই নদীতে চলমান সুলতানের মেশিন চেয়ারম্যানে ভাগিনা পরিচয় দানকারী কথিত ম্যানেজার সায়েমের দ্বারা পরিচালিত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজারটি তার উপস্থিতিতে জব্দ করা হয়।
জব্দ করার সময় পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তহিদুল ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিপুল সংখ্যক জনতা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ড্রেজারটি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সোহেল রানার জিম্মায় রাখা হয়েছে।
অভিযানে ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার আবুল কাশেম, পুলিশ অফিসারগন ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
ড্রেজার চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে পাল্টাপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান কে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
১৩ এপ্রিল’২৬ টলেন চন্দ্র, টংক নাথ, বিকাশ চন্দ্রসহ এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ভুমি প্রশাসনকে এক লিখত অভিযোগে জানান, বালু খেকো তুহিন চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন যাবত গায়ের জোরে, বেআইনি, নিয়ম বহির্ভূত, অন্যায়ভাবে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিএনপি দলীয় নেতা হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে নদীতে বীরগঞ্জ সীমানায় অবৈধ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।
যা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লায়ন চৌধুরীর সাথে আতাত করে সম্পন্ন করতেন, এখন তো তিনি নিজেই অত্র এলাকার সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নেতার দক্ষিণ হস্ত, ছত্রছায়ায়, আশির্বাদ পুষ্ট, তাই তার অপকর্ম ঠেকায় কে?
সীমাহীন দাপুটে তুহিন চেয়ারম্যান আইন অমান্য করে দীর্ঘদিন খানসামার আগ্রা বালু মহাল ইজারার নামে লুন্ঠন করেছে বীরগঞ্জ উপজেলার কোটি কোটি টাকা মুল্যের নদীর বালু।
অপরিকল্পিত ড্রেজিং হুমকির মুখে ফেলেছে নদীর উভয় তীর সংলগ্ন বাড়ীঘর, মসজিদ, বেশ কয়েকটি মন্দির, রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, আবাদি জমি।
ইতোপূর্বে ড্রেজিংয়ের ফলে সৃষ্ট গর্তে পতিত হয়ে নদীর পানিতে ডুবে মাধবঘাটেই দুইজন শিশুর অকাল মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে তুহিন চেয়ারম্যান ইজারায় অংশ গ্রহন করলেও সর্বোচ্চ দরদাতা হতে পারেন নাই, বহিরাগত ইজারাদার ঘাট পেলেও সিন্ডিকেট করে তিনিই নেতৃত্বে আছেন বলে স্বীকার করেছেন এবং নতুন বছরের কার্যাদেশ ছাড়াই ক্ষমতার দাপটে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।
এসব গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বীরগঞ্জ উপজেলা ভূমি প্রশাসন কঠোর নজরদারি শুরু করে এবং অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন স্যারের দিক নির্দেশনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম তুহিন চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন সীমানা নির্ধারণ না থাকায় এমন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
আমার অজ্ঞাতসারে সীমানা অতিক্রম করে বীরগঞ্জ উপজেলার কিছু বালু উত্তোলন হতে পারে। এটি আইন পরিপন্থী, ইজারা নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন,ভবিষ্যতে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে।
