
পাবনার আতাইকুলা উপজেলার আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে স্থানীয় যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী মো. কাশেমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের দোকানপাটে ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী মোসা. শাকিলা খাতুন আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে আতাইকুলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন দুপুরে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যালয়ের পাশের একটি খড়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে দোকান মালিক মো. কাশেম (৪০) তাকে ডেকে নেয়। সরল বিশ্বাসে কাছে গেলে অভিযুক্ত তার হাত ধরে জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে নিয়ে যায় এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত কাশেম একজন নারীকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ঝাঁপ বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমার বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অপ্রীতিকর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মো. কাশেম নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো নানা অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় ঘটনার সত্যতা ও দায় নির্ধারণে পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
