
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোস্তফা কামালকে আটক করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মোস্তফা কামালের গতিবিধি ও কিছু সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হলে কয়েকটি সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়, যেগুলো রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ব্যবহৃত উপকরণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
“উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এগুলো কোন উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাবেক ইউপি সদস্য হওয়ায় মোস্তফা কামালের এলাকায় প্রভাব ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করেছে এবং এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
টেকনাফ থানা পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ফরেনসিক ও বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। পাশাপাশি, এ ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সঠিক তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।”
উল্লেখ্য, টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, অস্ত্র ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন সামনে আনলেও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
