
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। আহত গৃহবধূ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্ব মির্জাপুর গ্রামের মোছাঃ মনিরা বেগম (২৭)-এর সঙ্গে প্রায় ৯ বছর আগে সাঘাটা উপজেলার গটিয়া গ্রামের মোঃ আনারুল ইসলামের ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মোঃ আল মোস্তাকিন (৭) নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা মোঃ মোসলেম উদ্দিন (৫০) জানান, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বিয়ের পর বিভিন্ন সময় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মেয়ের নামে থাকা জমি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা, নিজে ৫ লাখ টাকা এবং মেয়ের গার্মেন্টসে চাকরির সঞ্চিত প্রায় ২০ লাখ টাকা স্বামীপক্ষকে দেওয়া হয়। ওই অর্থ দিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে স্বামী আনারুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন শুরু করেন। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও হয়।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মনিরা বেগম শ্বশুরবাড়িতে গৃহকর্ম করার সময় স্বামীসহ অন্যান্য আসামিরা পুনরায় প্রায় ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এদিকে আহত মনিরা বেগম বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিবাদীরা মাইক্রোবাসযোগে এসে বাড়ির গেইটে ধাক্কাধাক্কি করে ও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা তার ছেলে মোঃ আল মোস্তাকিনকে কৌশলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন পরিবারটি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
