
পাবনার বেড়া বাজারে অবস্থিত এসআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ২২ বস্তা অবৈধ কারেন্ট ও চায়নাদুয়ারি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ থেকে ১২টা পর্যন্ত একটানা প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা কর হয়। এ সময় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারি পালিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বেড়া বাজারে কারেন্ট জাল ও চায়নাদুয়ারির ডিলার হিসেবে পরিচিত বেড়া উপজেলার বনগ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ হাওলাদার। সে প্রায় ৫-৬ বছর ধরে পাশ্ববর্তী সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা, পাথালিয়াহাট, সেলন্দাবাজার ফরিদপুর উপজেলার বড়ডেমরা, মাজাট, কালিয়ানির অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়নাদুয়ারি প্রস্তুতকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিল। এমনকি বিশ্বজিৎ কারেন্ট জাল ও চায়নাদুয়ারি কুরিয়ার সার্ভিসে সোনামসজিদ ও হিলি বন্দরে পাঠিয়ে সেখান থেকে ভারতে পাচার করে আসছে। এছাড়া বেড়া বাজারের আরও কয়েকজন কারেন্ট জাল ও চায়নাদুয়ারি ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে বলে এক খুচরা বিক্রেতা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তাদের কাছে খবর আসে অন্যত্র পাঠানোর জন্য বেড়া বাজারের এসআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদামে বিপুল পরিমান কারেন্ট জাল ও চায়নাদুয়ারি মজুদ করা হয়েছে।
এ খবরের সূত্র ধরে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বেড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নূরেন মায়িশা খান বেড়া মডেল থানার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এসআর কুরিয়ার সার্ভিসের অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে কুরিয়ারের ম্যানেজারের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে সে আসার কথা বলে এবং অভিযানিক দলকে বিভ্রান্ত করার জন্য জানায় অফিস বেড়া বাজারে হলেও গুদাম অন্যত্র। তার দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী লোকেশনে যাওয়ার জন্য গাড়ী ঘুরানো হয়। এদিক তারা দ্রুত গুদামের তালা খুলে জালে বস্তা বের করে নেয়ার সময় জালভর্তি ২২টি বস্তা উদ্ধার করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বেড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নূরেন মায়িশা খান বলেন, কারেন্ট জাল দেশের মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের নেপথ্যে অন্যতম কারণ, যা তৈরি, আমদানি, বিপণন, গুদামজাত, বহন ও অধিকারে রাখা মৎস্য রক্ষা ও মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এর ৫ এর ২ ধারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জব্দকৃত ২২ বস্তা জাল, মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। জব্দ জাল বেড়া মডেল থানার এসআই আলী আজমের জিম্মায় রাখা হয়েছে। নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারি জাল পরিবহন ও বিক্রির অভিযোগে এসআর ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলমান। জনস্বার্থে এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
