{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

পাবনা শহরে ফাঁদে ফেলে এক যুবককে অপহরণসদৃশ আটক, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনৈতিক কাজকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর (লোহাগড়ি) গ্রামের বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন (২৬) গত ৬ মার্চ পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি একটি পোল্ট্রি ফিড কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং বিভিন্ন এলাকায় মুরগির ডিম সরবরাহের কাজের সঙ্গে যুক্ত।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কৌশলে তাকে পাবনা শহরের মাটিয়াসড়ক এলাকার একটি বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে একটি কক্ষে অবৈধভাবে আটক করে। এরপর লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার হাত, পা, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং গুরুতর জখম হন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে আসামিরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় তার পকেটে থাকা নগদ প্রায় ১৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেয়। রাত প্রায় ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
পরে ভুক্তভোগীর স্বজনরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গেলে আসামিদের দাবিকৃত ৪০ হাজার টাকা প্রদান করা হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আহত অবস্থায় তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাতিয়াসড়ক এলাকার মোছা. জরিনা খাতুন (৩২), মো. বাপ্পি ওরফে কাটা বাপ্পি (৩০), মো. হানিফ (৩৬) এবং মিলন (৩৫)কে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি পাবনা সদর থানায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৭৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজন— জরিনা খাতুন, বাপ্পি ওরফে কাটা বাপ্পি এবং হানিফকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করলে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠানো হয়। অপর আসামি মিলনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পাবনা সদর থানা সার্কেল এসপি শরিফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পাবনা শহরের কিছু এলাকায় অনৈতিক কাজ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে তথাকথিত “হানিফ বাহিনী” নামেও একটি গ্রুপের আতঙ্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
