
রাস্তায় পা ফেলে হাঁটার অবস্থা নেই; মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি-দেওয়ান পাড়া সড়কের বেহাল চিত্র
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের দেওয়ান পাড়া সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, অনেক জায়গায় পা ফেলে হাঁটাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবলছড়ি ইউনিয়ন পার্বত্য অঞ্চলের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হলেও উপজেলা সদর এখানে যাওয়ার এবং যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি কার্যত অচল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর বিশেষ করে রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সীমিত সময় ছাড়া যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
বর্ষা শুরু হতেই সড়কের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। চাকমাপাড়া ও দেওয়ান পাড়াসহ আশপাশের প্রধান সড়ক এবং পাড়া-মহল্লার রাস্তাগুলো কাদায় ভরে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবি, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে দৃশ্যমান কোনো টেকসই সড়ক উন্নয়ন হয়নি।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সাময়িক কিছু সংস্কার কাজ করা হলেও তা স্থায়ী হয়নি। বর্ষা শুরু হতেই আবার আগের মতোই বেহাল অবস্থায় ফিরে গেছে সড়কগুলো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের নামে বিল উত্তোলন হলেও বাস্তবে কাজের তেমন কোনো চিহ্ন নেই।
এলাকাটিতে শুধু সড়ক নয়, শিক্ষা, নেটওয়ার্ক যোগাযোগ ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবাও অত্যন্ত সীমিত। এবং নেই কোন বিদ্যুৎ সংযোগ
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি কল্যাণ মিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন,
“জন্ম মোদের আজন্ম পাপ, নয়তো উপর ওয়ালার ভুল।”
তিনি আরও বলেন, চাকমা সম্প্রদায়ের প্রায় ১১৭টি পরিবারের যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। তার মতে, সড়কের এমন দুরবস্থার পেছনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বসবাস ও তাদের রাজনৈতিক অবস্থানও একটি কারণ হতে পারে।
এ অবস্থায় দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিবর্তনের এই সময়ে সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেবে এবং অচিরেই এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
