
রংপুরে রাস্তা নিয়ে বিরোধ, তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেও বিরোধ কাটছে না। নগরীর সিওবাজারে রাস্তা নিয়ে চলছে নাটকীয়তা। একদিকে এলাকার হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন আমার বাসার সামনে জোরপূর্বক প্রাচীর দিয়ে রেখেছে, এলাকাবাসীসহ সকলকে অমান্য করে। অপরদিকে নূর হোসেন বলেন আমি দলিল সাপেক্ষে বাসার প্রাচীর দিয়েছি। তবে যখন প্লানে বাসা করবো তখন অবশ্যই রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে কাজ করবো। এদিকে রের্কোডি রাস্তার জমি বলে দাবি করছেন হাবিবুর রহমান বলছেন, রের্কোডি জমি কিনে কেমন করে বাসা করে।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, বিতর্কিত জমিতে ইতোমধ্যে ইটের প্রাচীর ও টিনশেড ঘর নির্মাণ করে ভোগদখলে আছেন নূর হাসান। তিনি দাবি করেন, বাজারমূল্যে বৈধভাবে জমি ক্রয় করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তিনি। হাবিবুর রহমান ২০১৭ সালে উক্ত ১১২০ ও ১১২১ নং দাগের ০.০৩ একর জমি ক্রয় করে নামজারি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে নূর হাসান ২০২৩ সালে সেই জমি পুনরায় ক্রয় করে নিজ নামে নামজারি করেন এবং সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন।
এলাকাবাসী খায়রুল ইসলাম দাবি করে বলেন, তার পিতা খোরশেদ আলম ১৯৯৮ সালের একটি দলিলের মাধ্যমে ১১১৬ ও ১১১৭ নং দাগে ০.১২ একর জমি ক্রয় করেন। দলিলে রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে তা সংকুচিত হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার। আমরা আলোচনা করছি যেনো এলাকাবাসীর প্রয়োজনে রাস্তাটি বাড়ানো যায়।
এ ব্যাপারে রংপুর সিটি কর্পোরেশন ও ভূমি অফিসে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
ভূমি অফিস কতৃক তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নামজারি কেস নং-৮০৪৪/২০২২-২৩ এবং ১৮১৬৯/২০২২-২৩ বাতিল সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অফিসের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করা হয়।
তদন্তে দেখা যায়, ৬০ নং কেল্লাবন্দ মৌজার ১১২০ ও ১১২১ নং দাগে যথাক্রমে পুকুর ও ঘাটা শ্রেণির মোট ০.২৯২৫ একর জমি আরএস ৩৭ নং খতিয়ানে আইয়ুব আলী গং-এর নামে চূড়ান্তভাবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। কেল্লাবন্দ মৌজার ম্যাপে ১১২১ নং দাগকে রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত করা থাকায় বিরোধের অন্যতম কারণ হিসেবে এটি চিহ্নিত হয়েছে।
সার্বিক বিশ্লেষণে তদন্তে উল্লেখ করেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন ঘাটা শ্রেণির জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কারণেই এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতা ও প্রচলিত আইন বিবেচনায় উল্লিখিত দুইটি নামজারি মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
