
২০২৫’সালের নীতিমালা প্রণয়ন প্রশ্নবিদ্ধ- দেশ-বিদেশে ক্ষোভ, অবিলম্বে পরিবর্তনের জোর দাবি
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্পকে ঘিরে ২০২৫’ সালের নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি এখন গভীর বিতর্কের কেন্দ্রে। বিশেষ করে যাত্রাশিল্প থেকে অন্তর্ভুক্ত তিনজন সদস্যের ভূমিকা, যোগ্যতা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে শিল্পী সমাজে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে, যা এখন একটি বড় সাংস্কৃতিক প্রশ্নে রূপ নিয়েছে।
মাঠপর্যায়ের শিল্পী, কলাকুশলী, নির্দেশক এবং সকল সংগঠকদের অভিযোগ- এই তিন সদস্য যাত্রাশিল্পের বাস্তব চিত্র ও দীর্ঘদিনের সংকটগুলো সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের সঙ্গে শিল্পীদের সরাসরি যোগাযোগের অভাব, মতামত গ্রহণে অনীহা এবং সমন্বয়ের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যাত্রাশিল্পী সমাজের অনেকেই বলছেন, একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন কমিটিতে যারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাদের মধ্যে থাকতে হবে গ্রহণযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব জ্ঞান। কিন্তু বর্তমান তিন সদস্যের ক্ষেত্রে এই মৌলিক বিষয়গুলো নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নীতিমালা প্রণয়ন প্রক্রিয়া এখন আস্থার সংকটে পড়েছে।
বাড়ছে ক্ষোভ, উঠছে জোরালো দাবি
বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রাশিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে সুস্পষ্ট ও কঠোর দাবি উত্থাপিত হয়েছে-
যাত্রাশিল্প থেকে অন্তর্ভুক্ত বর্তমান তিন সদস্যকে অবিলম্বে রদবদল করতে হবে
তাদের পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়, অভিজ্ঞ ও সর্বস্তরের যাত্রাশিল্পীদের আস্থা অর্জনকারী নতুন কমপক্ষে পাঁচজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে
শিল্পী ও সংগঠকদের মতে, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়- বরং যাত্রাশিল্পের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।
এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া
এই বিতর্ক দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার লোকনাট্য ও ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্প নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন গবেষক, সাংস্কৃতিক বিশ্লেষক ও নাট্য ব্যক্তিত্বরা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাদের মতে, যাত্রাশিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এমন একটি শিল্পের নীতিনির্ধারণী কমিটিতে যদি সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হয়, তবে তা শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়।
কিছু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ভাষ্য অনুযায়ী,
“নীতিনির্ধারণে অযোগ্যতা ও অপ্রতিনিধিত্ব কোনো ঐতিহ্যবাহী শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে সেই শিল্পের স্বকীয়তা ও ভবিষ্যৎ দুটোই ঝুঁকির মুখে পড়ে।”
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি শিল্পের নীতিমালা যদি বাস্তবতা ও শিল্পীদের চাহিদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে সেটি কখনোই কার্যকর হতে পারে না। বরং তা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।
যাত্রাশিল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী ও জনসম্পৃক্ত শিল্পের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ এখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত সরাসরি শিল্পী সমাজ ও দর্শকের ওপর প্রভাব ফেলে।
এখন সময় এসেছে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যাত্রাশিল্পের ভবিষ্যৎ কি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিনিধিত্বের ওপর নির্ভর করবে, নাকি নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে- সেই উত্তরই খুঁজছে সমগ্র যাত্রাশিল্পী সমাজ।
দেশের ভেতরে ও বাইরে যখন সমালোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য এটি আর অবহেলার বিষয় নয়।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
