
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসন থেকে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো অবস্থাতেই প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধমূলক রাজনীতি করে না।
আজ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তার নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমাকে অন্যায়ভাবে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং পরে হামলার শিকারও হয়েছি। ইচ্ছে করলে প্রতিশোধ নেওয়া যেত, কিন্তু আমি তা করিনি। কারণ আমি প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই।
আরও বলেন, জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে এবং আমি নির্বাচিত হই, তাহলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুটপাট বা খুনের মতো অপরাধীদের কোনো ছাড় দেব না। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সবসময় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দিয়ে এসেছি, ভবিষ্যতেও দেব। জামায়াতের কারণে হিন্দু সম্প্রদায় কখনো নির্যাতিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং সবসময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাবনা জেলা জামায়াতের তালিমুল কুরআন সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খানের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর এবং পাবনা-৪ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক মাওলানা জহুরুল ইসলাম।
এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, বাঁশেরবাদা, আওতাপাড়া, চরগড়গড়ি এলাকায় আমার নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে । আমি ধৈর্য ধরে সব দেখেছি, শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো পাল্টা প্রতিশোধ নিইনি। আগামী ১২ তারিখে জনগণ ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
তিনি তার নির্বাচনী ইস্তেহারে ৪৮ দফা উন্নয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে ঈশ্বরদী রেলগেটে ফ্লাইওভার আথবা আন্ডারপাস নির্মাণ, বিমানবন্দর চালু করা, ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকায়ন, ঈশ্বরদী আটঘরিয়ার সকল নন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ,ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা, শিক্ষিত বেকার যুবকদের ঈশ্বরদীতে একটি আইসিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মধ্যে উন্নয়নের বৈষম্য দূর করা।
সভায় জামায়াতের পাবনা জেলা, ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
