
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া–দুর্গাপুর) আসনে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী, লন্ডনপ্রবাসী ব্যারিস্টার রেজাউল করিমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করে হঠাৎ নির্বাচনী মাঠে নামা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যকে ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটাররা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে রেজাউল করিমকে দাবি করতে দেখা যায়, তিনি পুঠিয়া–দুর্গাপুর এলাকায় প্রায় ৭০০ মসজিদের পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। একইসঙ্গে নির্বাচিত হলে পেঁয়াজ ইউরোপে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এসব বক্তব্যকে অনেকেই বিভ্রান্তিকর ও অবাস্তব আশ্বাস হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় না থেকেও হঠাৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে অনেকেই ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ রাজনৈতিক কৌশল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, রেজাউল করিম বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তা পাননি। পরবর্তীতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। একসময় তিনি নিজেকে লন্ডন জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিলেও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরপরই দেশে ফিরে নিজেকে বিএনপির নেতা হিসেবে তুলে ধরেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজশাহী-৫ আসনের স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, যিনি কখনো দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন না, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেননি—তার নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই সংশয় রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন,
“লন্ডনে বসে রাজনীতি করা আর রাজশাহীর মাঠের রাজনীতি এক জিনিস নয়। উনি এই আসনে জামানত হারাবেন—এটা প্রায় নিশ্চিত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র প্রবাসী পরিচয় কিংবা ‘ব্যারিস্টার’ ট্যাগ দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এখন আর সহজ নয়। বিশেষ করে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামা রেজাউল করিমের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাজশাহী-৫ আসনে ফুটবল প্রতীকের এই প্রার্থী এখন ভোটের হিসাবের চেয়ে বেশি আলোচনায়—তার রাজনৈতিক অতীত, আকস্মিক আবির্ভাব এবং দলীয় প্রত্যাখ্যানের কারণে। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে এই ‘হঠাৎ আগমন’ কতটা টিকে থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
