
দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নতুন করে হালনাগাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও ও কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তার এবং খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত পলাতক ও জামিনে থাকা অপরাধীরা যাতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্যই এই বিশেষ পদক্ষেপ।
তালিকাভুক্তির মানদণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং অপরাধের ধরন, বিস্তৃতি এবং অপরাধী কত বড় বাহিনী পরিচালনা করছে—তা বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে বসে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোও তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক জানান, “অপরাধী কোথায় অবস্থান করছে তার চেয়ে বড় বিষয় হলো সে অপরাধ কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। জেলের ভেতরে বা বিদেশে থেকেও অনেকে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, তাই অপরাধের ‘ম্যাপিং’ করে এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।”
প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশের সংস্কৃতি শুরু হয় ২০০১ সালে। ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর ২৩ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে তৎকালীন সরকার ৪২ জনের আরেকটি তালিকা প্রকাশ করে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক দুর্ধর্ষ অপরাধী জামিনে মুক্তি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত ২৬ এপ্রিল ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন, টিটন খুন হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, আগের মতো বড় মাপের সন্ত্রাসী না থাকলেও তাদের সহযোগী এবং নতুনভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের কড়া নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
আইনি ব্যবস্থা ও সরকারের অবস্থান বর্তমানে পুলিশের খাতায় সুব্রত বাইন, পিচ্চি হেলাল, কিলার আব্বাস, জিসান এবং ফ্রিডম সোহেলসহ বেশ কিছু পুরোনো নাম সক্রিয় রয়েছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও জারি আছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ গত সোমবার এক ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ৫ আগস্টের পর যারা আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়েছেন, তারা যদি পুনরায় কোনো অপরাধে জড়ান তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানান।
