
রাজনীতি আর অরাজনীতির মাঝামাঝি এক অদ্ভুত যাত্রার নাম পিপীলিকা। অনেক প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা আর স্বপ্নকে সঙ্গী করে যে সংগঠনের জন্ম, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক তরুণ নেতৃত্বের গল্প। ছাত্রজীবন থেকেই সমাজে ইতিবাচক কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে দায়িত্ববোধ ছিল বড়, আর সেই দায়বদ্ধতার পথ ধরেই গড়ে উঠেছে তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয়।
শুরুটা ছিল ছাত্ররাজনীতির মাঠে। ধীরে ধীরে নেতৃত্বের গুণাবলি, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে আলাদা করে তুলেছে। রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিতর্কের বদলে তিনি পরিচিত হয়েছেন কাজ, স্বপ্ন আর সাহসী উপস্থিতির জন্য।
২০১৩–১৪ সালের আন্দোলনে রাজপথে তার সক্রিয় ও দৃঢ় ভূমিকা তাকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় নিয়ে আসে। সেই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি ফোন করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে এবং নিজের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখতে পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য। এই ঘটনা তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থার এক বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের আন্দোলনেও রাজপথে তার উপস্থিতি ছিল তীব্র ও দৃশ্যমান। সংগঠনের ভেতরে ধারাবাহিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি দুইবার বিভাগীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পান। তখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর সভাপতির পদে। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় তিনি পরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জাতীয়তাবাদী যুবদল–এ, যেখানে সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলান। আহ্বায়ক এবং পরে সহ–সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের উত্তাল সময়েও তার সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠ মহল জানায়। এই ধারাবাহিকতা তাকে ধীরে ধীরে দলের শীর্ষ পর্যায়ের আস্থার জায়গায় নিয়ে যায়, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর কেন্দ্রীয় পরিসরে।
তার রাজনৈতিক পথচলা শুধু পদ বা দায়িত্বের নয়, বরং আন্দোলন, সংগঠন এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের এক দীর্ঘ অধ্যায়। ছাত্র থেকে শুরু করে আজ তিনি অনেকের কাছে প্রিয় মুখ, পরিচিত নেতৃত্ব।
এখন সামনে নতুন মূল্যায়নের সময়। আন্দোলনে তার ভূমিকা, সংগঠনে তার অবদান এবং মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বে তাকে কোথায় দেখা যাবে, সেটাই আলোচনার বিষয়।
সমর্থকদের আশা, এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা একদিন তাকে নিয়ে যাবে আরও বড় দায়িত্বে। অনেকের চোখে তিনি আগামীর পাবনা পৌর মেয়রের সম্ভাব্য মুখ।
সময়ের অপেক্ষা, আর সেই সঙ্গে এক স্বপ্নবাহী যাত্রার পরবর্তী অধ্যায়।
