
বাংলাদেশের যাত্রাশিল্প অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে প্রখ্যাত যাত্রা ব্যক্তিত্ব মিলন কান্তি দে’র প্রয়াণে। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাশিল্পের বিকাশ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং শিল্পীসমাজের কল্যাণে তাঁর সক্রিয় ও নিবেদিত ভূমিকা সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।
এই গুণী ব্যক্তিত্বের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর কর্মময় জীবনকে স্মরণ করতে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি স্মরণসভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৩টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী-এর স্টুডিও থিয়েটার হলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প মালিক সমিতি।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, স্মরণসভায় মিলন কান্তি দে’র শিল্পীজীবন, যাত্রাশিল্পের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সংস্কৃতি অঙ্গনে তাঁর বহুমাত্রিক অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। অনুষ্ঠানে যাত্রাশিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্পী, মালিক এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রেজাবুউদ্দৌলা, সাবেক সভাপতি, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটি।
স্বাগত বক্তব্য রাখবেন মোক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প মালিক সমিতি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নটরাজ এন এ পলাশ, সভাপতি, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি।
বাদশা গাজি, সভাপতি, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী কল্যাণ পরিষদ।
আমির সিরাজী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি।
এবং এ্যাড. মোঃ শাহ্ আলম, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পী কল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি।
স্মরণানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এম আলম লাবলু, সভাপতি, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প মালিক সমিতি।
উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ জানান, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা নয়; বরং যাত্রাশিল্পের প্রতি মিলন কান্তি দে’র ভালোবাসা, কর্ম ও অবদানকে সম্মিলিতভাবে স্মরণ ও স্বীকৃতি জানানোর একটি আবেগঘন উদ্যোগ। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা মনে করেন, তাঁর প্রয়াণ যাত্রাশিল্পের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর চিন্তা, কর্ম ও সাংগঠনিক ভূমিকা আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আয়োজকরা অনুষ্ঠানে যাত্রাশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের উপস্থিতি কামনা করেছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এই স্মরণসভা ও ইফতার মাহফিল মিলন কান্তি দে’র প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।
