
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জামিনপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধর করেছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আহত দুজন বর্তমানে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার অষ্ট মনীষা ইউনিয়নের ঝবঝবিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ভাঙ্গুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে এসআই সুব্রতসহ ১০-১২ জন পুলিশ সদস্য আব্দুর রহিম রুবেলকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে অভিযান চালান।
পরিবারের দাবি, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রুবেল বাড়ি থেকে সরে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই রেজা ও আরো দুই তিন জন এসআই এবং এবং চেক ডিজোনোর মামলাকারী মন্টু সহ পাশের বাড়িতে থাকা রুবেলের ছোট ভাই মো. রনির ঘরে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘরের গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে রনি ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে রুবেলের বিরুদ্ধে পাবনা বিজ্ঞ আদালতে মন্টু আলী নামে এক ব্যক্তি চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও রুবেল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে জামিন গ্রহণ করেন এবং জামিনের কপি ভাঙ্গুড়া থানায় জমা দেন বলে দাবি পরিবারের।
আহত পরিবারের অভিযোগ, পরোয়ানা জারির পর রুবেল পলাতক থাকাকালে তাকে গ্রেপ্তারের নামে পুলিশের পক্ষ থেকে অনৈতিক দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি পূরণ না করে আদালত থেকে জামিন নেওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এ হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. আমিরুল ইসলাম মহির, পুলিশের এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং এই বিষয়টি পাবনা জেলা পুলিশ সুপার কে ভালো করে তদন্ত করে খতিয়ে দেখার ব্যাপারে জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা জামিনের কোনো কাগজ পাইনি। প্রতিদিনের মতো আসামি ধরতে রুবেলের বাড়িতে যাই। পরিবারের লোকজন তাকে পালাতে সহযোগিতা করে এবং পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করে। এ সময় দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে সচেতন মহল পুলিশের এই প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাকে নাটক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই এমন নাটক সাজানো হয়েছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত না হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনআস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
