
রংপুরে নিজস্ব ডিশের ফিডের ব্যবসা আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা দখল হওয়ার পর সেটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে বেদখল মুক্ত করার প্রক্রিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা হীনতার কারণে সংবাদ সম্মেলন করেন রংপুর জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১২টায় কামাল কাছনাস্থ নিজ বাসভবনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তামজিদুর রশিদ গালিব বলেন, আমি ২০০৯-১০ সালে নগরীর কামাল কাছনাসহ আশেপাশের এলাকায় সিগনাল অপারেটরের সাথে ডিশের লাইন সরবরাহের ব্যবসা শুরু করি। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার ব্যবসা কেড়ে নেয়ার জন্য আওয়ামীলীগের চিহ্নিত বাহিনী আমাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুন ও ২৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নিজামুদ্দিন সুমন ওরফে রেডিও সুমন আমাকে ডিবি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করায়। এরপর আমার নামে তিনটি মামলা রেকর্ড করানো হয়।
গালিব বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালে যুবলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী কাউন্সিলর কানা হারুন আমার কামালকাছনা এলাকার ডিশের লাইন অবৈধভাবে দখল করে এবং আমার কর্মচারী এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের উপর হামলা চালায় ও মারপিট করে। এরপর থেকেই আমার ডিশ লাইন ও ফিড সরবরাহের ব্যবসাটি অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে তাকে। এতে আমি আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়ি। আমার বিপুল পরিমান বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়ে। এরপর একের পর এক মামলা দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে আওয়ামীলীগের এই গ্রুপটি।
তিনি আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনের অস্ত্র সরবরাহ, অর্থ দিয়ে আন্দোলন দমানোর মামলার অন্যতম আসামী কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ক্যাবল ওয়ানের মালিক মিজানুর রহমান মিজান, যুবলীগ নেতা আবুল ফজল ইউনুছ রিতুসহ আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের অনেক নেতার বিরুদ্ধে একাধিক রাষ্ট্রবিরোধী মামলা রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বিগত অন্তর্বর্তিকালীন সরকার মিজানসহ অন্যদের গ্রেফতার করে নি। বর্তমান প্রশাসনও তাদের গ্রেফতার না করায় তারা বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন উস্কানীমুলক কর্মকান্ড করার মাধ্যমে রংপুরকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। আমরা অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার দাবি করছি।
সাবেক যুবদলের এই নেতা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে আমি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ গ্রহন করি। আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্টরা দেশ থেকে পালিয়ে যায়। এরপর আমার বৈধ ডিশের লাইনের ব্যবসাটি অবৈধ দখলমুক্ত করে আমাকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য ক্যাবল ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমানের কাছে একাধিকবার আমি যোগাযোগ করি। কিন্তু তিনি আমাকে আমার বৈধ ব্যবসা ফিরিয়ে না দিয়ে উল্টো নানাভাবে ছলচাতুরির আশ্রয় নেয় যথেষ্ট প্রমানাদি তার সাথে আমার ব্যক্তিগত হোয়াটস এ্যাপ কথোপকোথন। আমি বিষয়টি নিয়ে মিজানুর রহমানকে বারবার বিষয়টি সমাধান করতে বললে তিনি উল্টো আমার বৈধ ব্যবসা আমাকে বুঝিয়ে না দেয়ার কৌশল হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ রেডিও সুমনের স্ত্রী মহিলা লীগ নেত্রী সাবেক কাউন্সিলর রীপার মেয়েকে দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে ডিশ লাইন কেটে দেয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, এরই মধ্যে গত ০১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ানের অফিসের একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ঐদিন আমি কামালকাছনার নিজ বাড়িতে ইফতারের পর ফেসবুকে উক্ত ঘটনার ভিডিওটি দেখতে পাই। সেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। এমনকি ওই ঘটনাটিও আমার নলেজে ছিল না। আমি জানতামও না। যা ওই ভিডিওটিতেই স্পস্ট হয়। কিন্তু উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে ওই ঘটনার সাথে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক জীবনের মানহানি করা হয়েছে। তবুও আমি ক্যাবল ওয়ান অফিসে সংঘটিত অনাকাংখিত ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
গালিব বলেন, আমি একজন শান্তিপ্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওই ঘটনা নিয়ে আমার রাজনৈতিক দলেরও সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। সেকারণে আমি আবারও দলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। দীর্ঘ ১৭ বছর কিভাবে আমি এবং আমার রাজনৈতিক সহকর্মীরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দ্বারা নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছি। তারপরেও আমিসহ আমরা শহীদ প্রেসিডেস্ট জিয়াউর রহমান, গনতন্ত্রের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং তারুণের অহংকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সামান্যতম বিচ্যুতি হয়নি। রাজপথে আমাদের রক্ত ঝড়েছে। বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। দিনের পর দিন কারাগারে বন্দি থেকেছি। আমাদের রক্ত ও ঘামে গড়ানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ বেদখল করে আমাদের নিঃস্ব বানিয়েছে। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর আমরা প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ফিরে পাওয়ার চেস্টা করছি’।
তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, আমার প্রাণের সংগঠন জাতীয়তাবাদি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিপ্লবী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। প্রশাসন এবং সরকারের কাছে বিনীত আহবান জানাতে চাই যে, পুরো ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের নীলনকশা প্রতিহত করে আমিসহ রংপুরে আমাদের রাজনৈতিক সহকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধ দখলে রয়েছে তা পুনঃরুদ্ধারে সহযোগিতা করবেন।
উল্লেখ্য-গত ০১/০৩/২০২৬ খ্রিঃ নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ান অফিসে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে গালিবসহ দুজোনকে র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেন। পরে তারা কোর্টের মাধ্যমে জামিন পেয়ে জামিনে আছেন।
এ সময় তামজিদুর রশিদ গালিব ছাড়াও তার শুভাকাঙ্খি ও সাংবাদিক সমাজ উপস্থিত ছিলেন।
