
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪ নং পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বাঘাডুবা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ভয়াবহ হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার সংঘটিত এই হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘাডুবা গ্রামের ‘আসামিয়া বাড়ি’ ও ‘দায় বাড়ি’র মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার ওই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আসামিয়া বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দায় বাড়ির ওপর হামলা চালায়। এতে দায় বাড়ির বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ফাঁকা বাড়িতে তান্ডব ও লুটপাট
আহতদের চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বাড়িটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সুযোগে সোহেল মিয়া ও রশিদ মিয়ার নির্দেশে আসামিয়া বাড়ির লোকজন ফের সংগঠিত হয়ে হামলা চালায়। তারা বাড়ির টিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী লুণ্ঠিত মালামালের তালিকা:
* লরি গাড়ি কেনার জন্য ঘরে রাখা নগদ ৮ লক্ষ টাকা।
* ৩টি গরু।
* সেচ পাম্প (মটর), টিউবওয়েল, সাইকেল ও টেলিভিশন।
* ঘরের অন্যান্য মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল।
ঘটনার পর ময়মনসিংহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্ত সাপেক্ষে সেটি এফআইআর (FIR) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারী পক্ষের কয়েকজন সদস্য সরকারি উচ্চপদে (পুলিশের এসআই এবং বিমান বাহিনীতে) কর্মরত থাকায় তারা ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন। আসামিপক্ষ প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে যে, তাদের কিছুই হবে না এবং তারা আইনি সমস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেবে> “আমরা রক্তাক্ত হলাম, আমাদের সব লুট হয়ে গেল, অথচ পুলিশ আসামিদের ধরছে না। তারা পুলিশের ভয় দেখিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ রাখতে বলছে।” — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী।
এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি পক্ষ সরকারি চাকরিতে থাকার সুবাদে আইনের ঊর্ধ্বে চলে যেতে পারে না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
