
পাবনার সাঁথিয়া, আতাইকুলা ও সুজানগর উপজেলার একের পর এক গ্রামে চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত চোর চক্রের কোনো হদিস মেলেনি। এর মধ্যেই নতুন করে দেখা দিয়েছে পেঁয়াজ চুরির আতঙ্ক।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—এগুলো কি বিচ্ছিন্ন চুরি, নাকি এর পেছনে রয়েছে সংগঠিত কোনো চক্র? নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ ধরনের অপরাধ বেড়ে চলেছে?
গরু চুরি কৃষকের শেষ সম্বল কেড়ে নিচ্ছে, আর পেঁয়াজ চুরি মাঠের ঘাম মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে। ঘরে তালা দিয়ে কিছুটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেও খোলা মাঠের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকরাই এখন নিজেদের ফসল ও সম্পদের রক্ষক হয়ে উঠেছেন। রাতের ঘুম হারাম করে গরু বাঁচাতে গ্রামে লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন তারা। অন্যদিকে পেঁয়াজক্ষেত পাহারা দিতে মাঠেই তাবু টানিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন কৃষক ও গ্রামবাসী।
প্রতিদিন রাতেই ১৫-২০ জনের দল গঠন করে যুবক থেকে বৃদ্ধ সবাই মিলে পাহারা দিচ্ছেন। কারও হাতে টর্চলাইট, কারও হাতে লাঠি—পালাক্রমে চলছে রাতজাগা প্রহরা।
এমনিতেই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফসলের ফলন কম, উৎপাদন খরচ বেশি। তার উপর চোর চক্রের দৌরাত্ম্য কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন—প্রশাসন কোথায়? আর কতদিন সাধারণ মানুষকে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে?
গ্রামবাসীর দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে চোর চক্রকে দমন করবে এবং সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত।
