
পাবনার বেড়া মডেল থানাধীন একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাবনা জেলা পুলিশের তথ্যমতে, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেড়া সার্কেল) এবং থানার অফিসার ইনচার্জ নিতাই চন্দ্র সরকারের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. লালবুর রহমান পিপিএম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করেন। এতে সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) ভোরে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মো. মানিক (৪৭), মোছা. জোছনা খাতুন (৪৪) এবং মো. খোকন প্রামাণিক (৪২)।
মামলার ভিকটিম ফজলুল হক (৪৫) পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন (২০ মার্চ) সকালে জানা যায়, তাকে গলা কেটে হত্যা করে বেড়া থানার বড় বশিলা এলাকার একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বেড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
প্রাথমিকভাবে মামলাটি রহস্যজনক হওয়ায় পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিহত ফজলুল হকের স্ত্রী জোছনা খাতুন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। জানা যায়, জোছনার সঙ্গে তার সাবেক স্বামী মানিকের সম্পর্ক ছিল এবং সেই সূত্রে তারা পুনরায় যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরে জোছনা খাতুন তার সাবেক স্বামী মানিকের সঙ্গে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন মানিকের বন্ধু খোকন প্রামাণিক। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ মার্চ রাতে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ফজলুল হককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত জব্দ করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
