
অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, পরে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় মরদেহ
টাঙ্গাইলে যুবদল নেতা আরিফুর রহমান অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোঃ ইউনুস আলী ও মোঃ অপু মিয়া।
পুলিশ জানায়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে যুবদল নেতা আরিফুর রহমান টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে মৌচাক এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে মারধর করে এবং পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ ঘটনায় আরিফুর রহমানের স্ত্রী বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা প্রদান করলেও অপহরণকারীরা আরও টাকা দাবি করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আরিফুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হওয়ায় টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় একটি চৌকস তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১০ মে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত বিভিন্ন অপারেটরের ৭টি সিমকার্ড ও ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, আসামি মোঃ ইউনুস আলী এর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অপহরণ ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পরে আদালতে হাজির করা হলে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।
