
প্রবাসী কার্ড প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এটি যেন কেবল ‘কাগুজে আনুষ্ঠানিকতা’ বা ‘লোক দেখানো’ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ। সংগঠনটি প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় একটি স্বচ্ছ, ডিজিটাল এবং দালালমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং সদস্য সচিব এম এ রউফ (কাতার) এই দাবি জানান।
প্রবাসীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার প্রবাসী কার্ড দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে এই উদ্যোগ যদি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হয়, তবে সাধারণ প্রবাসীরা এর কোনো সুফল পাবেন না। তারা স্পষ্ট করেন যে, এই কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা, রেমিটেন্স ভাতা এবং বিমানবন্দর সুবিধাসহ প্রকৃত নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
দালালচক্র ও প্রতারণা রোধে সতর্কতা
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দালালচক্র ও অসাধু ব্যক্তিরা কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারকে এই ষড়যন্ত্র ও প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরকারি তত্ত্বাবধানে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্ড বিতরণ করতে হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা প্রস্তাবনা
প্রবাসীদের সেবাকে শতভাগ স্বচ্ছ ও সহজতর করতে “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ সরকারের কাছে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরে:
১. আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিজিটাল করা।
২. আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন ট্র্যাকিং সুবিধা চালু রাখা।
৩. কার্ডের ফি (যদি থাকে) স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা এবং অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন বন্ধ করা।
৪. প্রতারক ও ভুয়া প্রতিনিধিদের ধরতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা।
৫. বিদেশের দূতাবাসগুলোকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা ও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।
৬. প্রবাসীদের অভিযোগ শোনার জন্য সার্বক্ষণিক হটলাইন চালু করা।
বিশ্বজুড়ে সংগঠনের একাত্মতা
এই দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন সংগঠনের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্য কমিটির মোসাদ্দিক মিয়া মানিক ও সৈয়দ খালেদ মিয়া অলিদ, আমেরিকা কমিটির হাকিকূল ইসলাম খোকন ও রেজা নবী, সৌদি আরবের রিমন হোসেন, ফ্রান্সের জামাল উদদীন ও ডক্টর মালেক ফরাজী এবং ইতালি, কুয়েত, কাতার ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আহ্বায়করা।
পাশাপাশি “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লায়ন শাহিদা পারভীন রত্না, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াসমিন রহমান বকুলসহ অন্যান্য নারী নেতৃবৃন্দ এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, নেতৃবৃন্দ সকল প্রবাসীকে যেকোনো ব্যক্তিগত লেনদেন থেকে বিরত থেকে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানান।
