
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকদের বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চার রুশ নারীসহ আট রুশ নাগরিক এবং দুই গাড়ির চালক-হেলপারসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন (২২) নাটোর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির হেলপার ছিলেন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাটোর থেকে ঢাকাগামী মালবোঝাই একটি ট্রাক এবং ঢাকা থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগামী নিকিমথ কোম্পানির রুশ নাগরিক বহনকারী একটি মিনিবাস তালবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকের হেলপার ইমনের মৃত্যু হয়। এ সময় উভয় গাড়ির চালক-হেলপারসহ মিনিবাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে চার নারীসহ আটজন রুশ নাগরিক রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গুরুদাসপুর ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার রুস্তম আলীর নেতৃত্বে আহতদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার উদ্ধার তৎপরতা শেষে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে রাত ১১টার দিকে মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
আহতদের খোঁজ নিতে রাতেই গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
