
যানজট, অব্যবস্থাপনা ও ফুটপাত দখলে দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে পাবনা শহরবাসীর। শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে নানা ধরনের অস্থায়ী দোকান ও বাজার। ফলে বাধ্য হয়ে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
আব্দুল হামিদ রোডে রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী গাড়িসহ নানা ধরনের যানবাহনের চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা। এতে ব্যস্ততম সড়কটি প্রায়ই যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ব্যবসায়ী দোকানের সামনের জায়গা ভাড়ায় দিয়ে সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বসতে দিচ্ছেন। ফলে ফুটপাত সংকুচিত হয়ে পথচারীদের চলাচলের জায়গা থাকছে না। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বেনিয়াপট্টি এলাকায়। পাঁচমাথা মোড় থেকে খলিফাপট্টি মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল রাস্তার ওপর রাখায় সড়ক আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে এ আর প্লাজা ও এ আর কর্ণার মার্কেটের সামনেও সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল রাখায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, রবিউল মার্কেটের সড়ক ও অ্যাডভোকেট মাসুদ কমপ্লেক্সের মোড়েও যত্রতত্র অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল রাখার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বড় বাজার, গোপালপুর শিশু শিক্ষা নিকেতন, হলি চাইল্ড স্কুল ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের আশপাশে যানজটের কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
শহরের ব্যস্ত সড়কে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, মিছিল, পথসভা ও সমাবেশের কারণেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নিয়মিত কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সদস্যরা যানজট নিয়ন্ত্রণে কোন স্বইচ্ছা না থাকার করলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান নয়, নিয়মিত তদারকি, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পাবনা শহরের যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
