
ওসির রুমে বসে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া নাফিসা নামে এক তরুণী শনিবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তাকে জোর করে এবং নানা ভয় ভীতি ও চাপ দিয়ে সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের কথা বলতে বলা হয়েছিল। তার অভিযোগ, প্রথমে সুবর্ণা হালিম নামে এক বিএনপি নেত্রী তাকে বাসায় নিয়ে গিয়ে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কথা বলতে বলেন। পরে তাকে পাবনা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। নাফিসার দাবি, ডিবি কার্যালয়ে তার মা-বাবার সামনেই জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওটি ধারণ করেন সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক কথিত সাংবাদিক। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এদিকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও সাংবাদিক নেতা জহুরুল ইসলামের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেন পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকরা। তাদের অভিযোগ, ডিবি ওসির মদদ ও কারসাজিতে নাফিসাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিকরা নাফিসার বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। সভায় সাংবাদিকরা পাবনা ডিবির ওসি রাশেদুর ইসলামকে অবিলম্বে প্রত্যাহারসহ এই ঘৃণিত ষরযন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান। নাফিসার বক্তব্যে উঠে আসা সুবর্ণা হালিম, সোহেল রানা বিপ্লব এর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, আমি শুনেছি ডিবি ওসির রুমেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার এর সভাপতিত্বে এবং সাহিত্য সম্পাদক পাভেল মৃধার সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সাবেক সম্পাদক ও দৈনিক জোড়বাংলা সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক আখিনূর ইসলাম রেমন, সৈকত আফরোজ আসাদ, সাবেক সহসভাপতি মির্জা আজাদ, শহিদুর রহমান শহিদ এবং ক্লাব সদস্য জিকে সাদী, রাজিউর রহমান রুমী, রফিকুল ইসলাম সুইট, মাহফুজ আলম, কাজী বাবলা, এমজি বিপ্লব চৌধুরী, রিজভী জয়, মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, মিজান তানজিল, পার্থ হাসান প্রমুখ।
