
জাতীয় সংসদে শৃঙ্খলাপূর্ণ আলোচনা নিশ্চিতকরণ ও সময়ের অপচয় রোধে আহ্বান করেছেন, অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
এম এ রউফ (কাতার)
সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি
“দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ.
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের জাতী য় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি বক্তব্য এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংবিধান, কার্যপ্রণালী বিধি এবং সংসদীয় রীতি-নীতির আলোকে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হলো গঠনমূলক, যুক্তিনির্ভর ও জনস্বার্থভিত্তিক আলোচনা পরিচালনা করা।
সংসদে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নিয়মাবলি বিদ্যমান—মাননীয় স্পিকারকে সম্বোধন করা, অনুমতি নিয়ে বক্তব্য রাখা, দাঁড়িয়ে কথা বলা, শালীন ভাষা ব্যবহার করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করা এবং অন্য সদস্যের বক্তব্যে অযথা বিঘ্ন সৃষ্টি না করা। এসব নিয়ম শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সংসদের মর্যাদা ও কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
তবে দুঃখজনকভাবে মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত বিষয়, পারিবারিক ইতিহাস বা অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা তুলে ধরে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে। “আমার মা কি, বাপ-দাদা কি ছিল”—এই ধরনের বক্তব্য শুধু অপ্রাসঙ্গিকই নয়, বরং জাতীয় সংসদের মূল্যবান সময় অপচয়ের একটি উদাহরণ।
সময়ের অপচয়ের ক্ষতিকর প্রভাব:
প্রথমত, সংসদের প্রতিটি মিনিট জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। অপ্রয়োজনীয় আলোচনার মাধ্যমে সেই অর্থের অপচয় ঘটে, যা সরাসরি জনগণের ক্ষতি।
দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যা—যেমন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রবাসী কল্যাণ—এসব বিষয়ে কার্যকর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হয়। ফলে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
তৃতীয়ত, সংসদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়। জনগণ আশা করে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্বশীল আচরণ করবেন; কিন্তু যখন তারা অপ্রাসঙ্গিক বা ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুনেন, তখন সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়।
চতুর্থত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একটি দেশের সংসদের মানই তার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন। সেখানে যদি শৃঙ্খলা ও গঠনমূলকতা না থাকে, তবে তা নেতিবাচক বার্তা দেয়।
আহ্বান:
জাতীয় স্বার্থে সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানানো যাচ্ছে—
সংসদের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করে শুধুমাত্র জনকল্যাণমূলক, বাস্তবসম্মত ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আলোচনা করুন। ব্যক্তিগত বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় পরিহার করুন এবং সংসদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখুন।
দেশ আমাদের সবার। এই দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও কার্যকর সংসদীয় কার্যক্রমের উপর।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিষয়: জাতীয় সংসদে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও “তোআ-আতো” নীতির আলোকে দায়িত্বশীল বক্তব্যের আহ্বান করেছেন,
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদ পরিচালিত হয় জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে। এই সত্যটি স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—সংসদে যে অর্থ ব্যয় হয় তা কোনো এমপি, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অর্থ নয়; এটি জনগণের টাকা, জনগণের হক।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা বলেন, সংসদের মূল্যবান সময়কে ব্যক্তিগত বাহাদুরিত্ব, পারিবারিক পরিচয় বা অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যে ব্যয় করা মানে সরাসরি জনগণের অর্থের অপচয়। “আমার বাবা কে ছিলেন, দাদা কি ছিলেন”—এই ধরনের বক্তব্য দেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ বা জনকল্যাণে কোনো বাস্তব অবদান রাখে না।
তিনি আরও বলেন,
“যে সকল সংসদ সদস্য নিজেদের ব্যক্তিগত গৌরব বা বংশ পরিচয় তুলে ধরে সংসদের সময় নষ্ট করেন, তাদের দ্বারা অপচয় হওয়া জনগণের অর্থ তাদেরই বহন করা উচিত। কারণ এটি অন্যের হক—এবং অন্যের হক নষ্ট করা আমাদের নীতির পরিপন্থী।”
অ্যাডভোকেট ঈসা সাহেবের প্রবর্তিত “তোআ-আতো” (M–Y) নীতি—“তোমারটা তোমার, আমারটা আমার”—এই মূলনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই দর্শনের মূল কথা হলো:
কেউ কারো অধিকার হরণ করবে না, কেউ অন্যের সম্পদ বা সময় অপচয় করবে না। ন্যায়, সততা ও পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্যের হক নষ্ট করা শুধু সামাজিক অন্যায় নয়, এটি নৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও গুরুতর অপরাধ। যার হক নষ্ট করা হয়েছে, সে ক্ষমা না করা পর্যন্ত এর দায় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে পারিবারিক পরিচয়—যেমন “বাবা কৃষক ছিলেন” বা “বাবা উচ্চপদস্থ ছিলেন”—এই ধরনের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানায়, ব্যক্তির পারিবারিক পটভূমি নয়, বরং তার কর্ম, দক্ষতা এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থানই দেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল চালিকাশক্তি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে বলা হয়:
সংসদে প্রতিটি মিনিট জনস্বার্থে ব্যয় করতে হবে
অপ্রাসঙ্গিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক বক্তব্য পরিহার করতে হবে
জনগণের অর্থের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
“তোআ-আতো” নীতির আলোকে অন্যের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে
দেশের সার্বিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য দায়িত্বশীল সংসদীয় আচরণ এখন সময়ের দাবি।
বিজ্ঞপ্তিদাতা:
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
এম এ রউফ (কাতার)
সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি
“দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ
মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটি
লায়ন শাহিদা পারভীন রতনা
সৈয়দ মঈন
