
দেশে ও বিদেশে প্রতারণা, অবহেলা এবং নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রবাসী অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত সংগঠন ‘দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ’। ভুক্তভোগীদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত সংগঠনটির বিশেষ শাখা “এনআরবি ফরিয়াদ”-এর মাধ্যমে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব এম এ রউফ (কাতার) এই উদ্যোগের কথা জানান। সদস্য সচিব এম এ রউফ বলেন, “আমরা চাই দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকুক। প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।”
প্রবাসী ছাড়িয়ে দেশের অভ্যন্তরেও বাড়ছে আবেদন
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মূলত প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের অভিযোগ শুনে যথাযথ সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে “এনআরবি ফরিয়াদ” গ্রুপ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তর থেকেও বহু ভুক্তভোগী তাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এটি প্রমাণ করে যে প্রতারণা ও নির্যাতন কেবল প্রবাসীদের নয়, বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক সমস্যা হিসেবে রূপ নিয়েছে।
অভিযোগ নিষ্পত্তির ‘সুসংগঠিত পদ্ধতি’
১৮ কোটি মানুষের সব সমস্যা এককভাবে সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সংগঠনটি ভুক্তভোগীদের একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রতারিত, অবহেলিত বা বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিরা প্রথমে লিখিতভাবে তাদের অভিযোগ প্রস্তুত করবেন।
২. অভিযোগপত্রটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (ইউপি মেম্বার বা চেয়ারম্যান)-এর নিকট উপস্থাপন করতে হবে।
৩. অভিযোগপত্রের একটি কপিতে সংশ্লিষ্ট মেম্বার বা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সিল গ্রহণ করতে হবে।
৪. স্বাক্ষরযুক্ত কপিতে ভুক্তভোগীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংযুক্ত করে “এনআরবি ফরিয়াদ” গ্রুপের প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ জানান, এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ করা সহজ হবে। প্রয়োজনে সংগঠনের পক্ষ থেকে থানার ওসি, ডিসি, এসপি কিংবা বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের আহ্বান
সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দায়িত্ব অবহেলাকে ‘আমানতের খিয়ানত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তি যখন নিজের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়, তখন তার প্রভাব সমাজ ও রাষ্ট্রে পড়ে। সমাজ থেকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে মানবিক ও জবাবদিহিতামূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। অহংকার পরিহার করে শক্তি ও দায়িত্ববোধকে কর্মীর প্রকৃত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তারা।
আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কমিটির সমন্বয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক
সারাবিশ্বে অবস্থানরত প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক কমিটি গঠন করেছে। সৌদি আরব, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, দুবাই, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, স্পেন, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এবং বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রবাস ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক চেইনে যুক্ত উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ হলেন:
যুক্তরাষ্ট্র: আহ্বায়ক হাকিকূল ইসলাম খোকন (সিনিয়র সাংবাদিক), যুগ্ম আহ্বায়ক রেজা নবী, সদস্য সচিব কিলটন পাভেল।
যুক্তরাজ্য: আহ্বায়ক মোসাদ্দিক মিয়া মানিক, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ খালেদ মিয়া অলিদ।
ইউরোপ: আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ চৌধুরী।
সৌদি আরব: আহ্বায়ক রিমন হোসেন, সদস্য হেলাল আহমেদ ও মেজর ইমরান।
মহিলা কমিটি (কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ): শাহীদা পারভীন রত্না, নাসরিন আক্তার তরফদার, বিনা ঈসা, নার্গিস খালেদ, ইয়াসমিন রহমান বকুল, নাজনীন রহমান রাজন, ইয়াসমিন আক্তার রুমন, লাবনী আনোয়ার প্রমুখ নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এছাড়াও পাবনা জেলার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাসান এবং সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন আবুল খায়ের ও সৈয়দ হাফিজুল মঈন।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে যে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
যোগাযোগের ঠিকানা: * অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা (প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক) – desh.bondhu@hotmail.com
এম এ রউফ (কাতার) (সদস্য সচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি) – মোবাইল: +00974 66958035, roufnasrin@gmail.com
