
“বাবা মানে বটবৃক্ষের ছায়া। যার বাবা আছে, সে হয়তো এই ছায়ার শীতলতা সব সময় বুঝতে পারে না; কিন্তু যার বাবা নেই, সে জীবনের প্রতিটি পদে পদে এই পরম আশ্রয়ের অভাব টের পায়।”
বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে এক আবেগঘন বার্তায় এই গভীর অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার’-এর সদস্য এবং কাতার প্রবাসী এম এ রউফ (আন্তর্জাতিক যোগাযোগ: roufnasrin@gmail.com, দূরভাষ: 009746695805)।
আজ জুন মাসের তৃতীয় রবিবার, বিশ্ব বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে বাবার অসামান্য অবদান, ত্যাগ আর ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আজ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
মরহুম হাজী মোহাম্মদ আঃ নূর সাহেবের স্মরণে শ্রদ্ধা ও দোয়া
বাবা দিবস উপলক্ষে এম এ রউফ তাঁর প্রয়াত পিতা, সমাজসেবক ও পরম নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্ব হাজী মোহাম্মদ আঃ নূর সাহেবের স্মৃতি চারণ করেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা ছিলেন একজন অত্যন্ত সত্যবাদী ও আদর্শবান মানুষ। আজ বাবা দিবসে তাঁর পবিত্র আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ পাকের দরবারে আমার আকুল প্রার্থনা—তিনি যেন আমার দোয়া কবুল করেন এবং আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।”
জীবিকার তাগিদে দেশের বাইরে থাকা কোটি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবনের অন্যতম বড় শক্তি ও প্রেরণা হলো বাবার দোয়া ও তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ। প্রবাসের শত কষ্টের মাঝেও বাবার সেই সততা ও আদর্শকে বুকে ধারণ করে পথ চলছেন বলে জানান এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
কীভাবে এলো বাবা দিবস? জেনে নিন ইতিহাস
সন্তানের জন্য বাবার ত্যাগ চিরন্তন হলেও, এই দিনটিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন ইতিহাস।
- উদ্যোক্তা সনোরা স্মার্ট ডড: বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সনোরা স্মার্ট ডড’ নামে এক নারী।
- অনুপ্রেরণা ও মায়ের অভাব: ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোনও বিশেষ দিন ছিল না। ডড স্থানীয় একটি গির্জায় ‘মা দিবস’ পালনের কথা জানতে পারেন। মাতৃহীন ডড লক্ষ্য করেন, মা দিবসের এত বড় আয়োজন থাকলে বাবার ত্যাগের মূল্যায়নে কেন কোনও দিন থাকবে না?
- সিঙ্গেল ফাদারের ত্যাগ: মায়ের মৃত্যুর পর শত দুঃখ-কষ্টের মাঝেও ডডসহ তাঁর সাত ভাইবোনকে পরম স্নেহে ও একা হাতে বড় করে তুলেছিলেন তাঁদের বাবা। বাবার এই অনন্য ত্যাগ ও সংগ্রাম দেখে ডডের মনে হয়েছিল, বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটি নির্দিষ্ট দিন থাকা আবশ্যক।
- প্রথম উদযাপন: ডডের দীর্ঘ এক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও স্থানীয় কমিউনিটিগুলোর সহায়তায় অবশেষে ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাবা দিবস’ পালিত হয়। পরবর্তী সময়ে যা বিশ্বব্যাপী রূপ নেয়।
আজকের এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আর যে বাবারা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন, তাঁদের আত্মার চিরশান্তি কামনা করছে বিশ্ববাসী।
