
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ দুই দশকের। সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক দলীয় কর্মকাণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে রূপ নিয়েছে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও রাজনৈতিক অভিভাবকত্বে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি থাকাকালীন সময় থেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আসেন হাসান জাফির তুহিন। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সংগঠক হিসেবে দক্ষতার কারণে অল্প সময়েই তিনি বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য।
রাজনৈতিক জীবনে একাধিক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন তুহিন। ২০১৮ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সে সময় তাকে দেখতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতালে ছুটে যান বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। কঠিন সময়ে ওই উপস্থিতি তুহিনের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়, সংগঠক হিসেবেও তুহিনের সক্ষমতাকে মূল্যায়ন করেছেন মির্জা ফখরুল। কৃষকদলের জাতীয় সম্মেলনের পর সংগঠনকে ঘিরে সৃষ্ট নানা জটিলতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তুহিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দলীয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে এবং সংগঠনকে দ্রুত সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে আনার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন নেতাকর্মীরা।
তুহিনকে কৃষকদলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার ক্ষেত্রেও মির্জা ফখরুলের ভূমিকা ছিল বলে বিএনপির একাধিক নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, তরুণ ও ত্যাগী এই নেতার সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও তুলে ধরেছিলেন মির্জা ফখরুল।
পরবর্তীতে হাসান জাফির তুহিনকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের এই সুযোগকে তার নেতৃত্বগুণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন তার অনুসারীরা।
রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা এবং হাসান জাফির তুহিনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাদের সম্পর্ককে একটি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। বিএনপির রাজনীতিতে দুই প্রজন্মের এই দুই নেতার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও পারস্পরিক আস্থা দলটির নেতাকর্মীদের কাছেও আলোচিত।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সম্পর্কের মূল্যায়নে ব্যক্তিগত আনুগত্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক ভূমিকা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও দায়িত্ব পালনের বাস্তব রেকর্ডও বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
