
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় একটার দিকে ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ১৭৪টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যা নির্বাচনে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
চূড়ান্ত ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আলী আছগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট। টানটান উত্তেজনার এ লড়াইয়ে ৩ হাজার ২৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন আলী আছগার।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, চাটমোহরে ধানের শীষ পেয়েছে ৭৭ হাজার ১০০ ভোট, আর দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৬২ হাজার ৭২০ ভোট। ভাঙ্গুড়ায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এগিয়ে থেকে পেয়েছে ৪৪ হাজার ২১২ ভোট, যেখানে ধানের শীষ পেয়েছে ২৮ হাজার ৬০৩ ভোট। ফরিদপুর উপজেলায়ও ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই—এখানে দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৩৮ হাজার ৯০৫ ভোট এবং ধানের শীষ পেয়েছে ৩৭ হাজার ৮৩৭ ভোট।
নির্বাচনকে ঘিরে তিন উপজেলায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয় ১০ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী। ফলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সার্বিকভাবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী এ ফলাফলের মাধ্যমে পাবনা-৩ আসনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
