
এনডিএনএ ডেস্ক: পাবনার বালিশ কাণ্ডের ঘটনা। এবার সেই প্রসঙ্গ তুললেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডে’ অডিট প্রতিবেদনও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান।
বৈদ্যুতিক কেটলি, রুম পরিষ্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়। একেকটি খাট কেনা দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর খাট ওপরে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের বিস্তারিত থাকার কথা তুলে ধরেছেন সালেহ শিবলী। নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।
অর্ধযুগেরও বেশি সময় আগের আলোচিত এই দুর্নীতির তদন্তের বিষয়টি এখনো দুদকে আটকে আছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এ ঘটনায় সে সময় অভিযুক্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল সংস্থাটি। এছাড়া একই অভিযোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার মো. আহসানুল হক, ফজলে হক, শাহনাজ আখতারকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং খোরশেদা ইয়াছরিবা নামে আরেক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে নামিয়ে দেওয়া হয় নিচের পদে।
৩৬ টি অডিট ও হিসাব রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন : রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করার লক্ষে ৩৮টি অডিট (নিরীক্ষা) ও হিসাব রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নুরুল ইসলাম রিপোর্টগুলো উপস্থাপন করেন। এসব রিপোর্টে প্রাপ্ত পর্যবেক্ষণ, সুপারিশ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই বিশাল সংখ্যক অডিট রিপোর্ট পেশ করার মাধ্যমে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করা হয়েছে। এটি দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এই রিপোর্টগুলো গ্রহণ করার পর পরবর্তী ধাপগুলো হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ১২৮ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই রিপোর্টগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হবে এবং পরবর্তীতে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে। এরপর সংসদীয় কমিটি রিপোর্টগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তলব করা এবং অর্থ আদায়ের সুপারিশ করা হবে।
এই ৩৮টি রিপোর্টের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির নিরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: বার্ষিক কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট: বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থায় প্রচলিত বিধি-বিধান প্রতিপালিত হয়েছে কিনা তা যাচাই করা হয়েছে। পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট: সরকারের বিশেষায়িত প্রকল্প বা সেবার কার্যকারিতা এবং তা জনগণের কতটুকু কল্যাণে এসেছে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আর্থিক অডিট রিপোর্ট: সরকারের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঠিকতা যাচাই করা হয়েছে।
