
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’-এর সাথে ‘রেমিট্যান্স ভাতা’ সংযুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছে “দেশবন্ধু” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ।
শনিবার (০৯ মে) সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং সদস্য সচিব এম এ রউফ (কাতার) এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ যা বলেন:
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবাসীরা জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রম, ঝুঁকি এবং চরম নিঃসঙ্গতায় কাটিয়ে দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী করছেন। অথচ বার্ধক্যে পৌঁছে অনেক প্রবাসী অবহেলা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান। অনেকের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়, আবার অনেকে অসুস্থ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। এই বাস্তবতায় প্রবাসীদের শ্রম ও ত্যাগের ন্যায্য মূল্যায়নের জন্য একটি স্থায়ী ‘রেমিট্যান্স ভাতা’ অত্যন্ত জরুরি।
তারা আরও বলেন, “প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের হাতে ভিক্ষার থালা নয়, রেমিট্যান্সের ভাতা দিন। এটি কোনো করুণা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় তাদের অসামান্য অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায্য অধিকার।”
সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা:
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের অন্যতম দাবি ছিল ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা। সরকার এই দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিয়ে কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তারা সরকার প্রধান জনাব তারেক রহমান এবং মাননীয় মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তবে এই কার্ডের সুবিধার তালিকায় ‘ডাল-ভাতের রেমিট্যান্স ভাতা’ অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রবাসীদের মৌলিক অধিকার অধরা থেকে যাবে বলে তারা মনে করেন।
সংগঠনের সমর্থন ও সংহতি:
এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহিলা কমিটির সভাপতি লায়ন শাহিদা পারভীন রতনা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত আহ্বায়ক ও প্রতিনিধিগণ। যাদের মধ্যে রয়েছেন— ইউরোপের আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ চৌধুরী, ইউকে-র মোসাদ্দিক মিয়া মানিক, আমেরিকার হাকিকূল ইসলাম খোকন, সৌদি আরবের রিমন হোসেন, ইতালির রেয়াজ আবু সাঈদ, দুবাইয়ের শাহিন তালুকদার এবং কাতারের হেলাল উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
দাবির যৌক্তিকতা:
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বর্তমানে শিক্ষা, চিকিৎসা ও মৃত্যুজনিত কিছু সুবিধা পেলেও অবসরকালীন বা বার্ধক্যজনিত কোনো নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। একটি ন্যূনতম ভাতা চালু করলে হাজার হাজার অসহায় ও অবসরপ্রাপ্ত প্রবাসী সমাজে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাবেন।
“দেশবন্ধু” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ বিশ্বাস করে, প্রবাসীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। পরিশেষে, অবিলম্বে প্রবাসী কার্ডের নীতিমালায় ‘রেমিট্যান্স ভাতা’ যুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
প্রেরক:
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক, “দেশবন্ধু” রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ।
ইমেইল: desh.bondhu@hotmail.com
